প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ২২ এপ্রিল , ২০২৫
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ৩৭ শিক্ষার্থীর বহিষ্কার আদেশ আসার পর শুরু হওয়া ‘ভিসির পদত্যাগ আন্দোলনে’ একাত্মতা জানিয়েছে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বস্থানীয় শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।
একই সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে ঘটনার সূত্রপাতের সময় কুয়েটের উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদকে হেনস্তার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি চেয়েছে দলটি।
কুয়েটের সঙ্কট নিরসনে কালক্ষেপন করে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করে এনসিপি।
গতকাল সোমবার থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ৩০ জন শিক্ষার্থী। অনশনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে তীব্র গরমে তিনজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে আন্দোলনে সমর্থন জানান এনসিপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রদল ও বহিরাগত বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। স্থানীয়দের হামলায় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার কথা গণমাধ্যমে আসে। ওই ঘটনার সূত্র ধরে গত ১৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই কুয়েটের ভিসির পদত্যাগ দাবিতে সারাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খন্ড খন্ড আন্দোলন হচ্ছে।
এদিন সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ পরই শাহবাগে ব্লকেড সৃষ্টি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের কলেজগুলোর একদল শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে সিফাত বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বহিস্কৃত শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশ না করলেও, একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বহিস্কৃত শিক্ষার্থীদের মাঝে ৭ জন নিজ দলের কর্মী থাকার কথা বলেছেন। এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে এই ধরনের আচরণ আমরা বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে লক্ষ্য করেছি। এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা এবং ভিসি মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল থেকে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে সংঘটিত জুলাই অভ্যুত্থান থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক দল হিসাবে এনসিপি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার সঙ্গে একাত্বতা পোষণ করাকে দায়িত্ব মনে করে।”
ভিসির পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে সমর্থন দিলেও গত ফেব্রুয়ারি মাসে উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে এনসিপি।
“ফেব্রুয়ারি মাসে হামলার সময় উপাচার্যকে শারিরীকভাবে হেনস্থা করার যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তারও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে, তবে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হলে তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য আবেদন করলেও এবিষয়ে কেউ তেমন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন সিফাত।
“দুই মাস আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কুয়েট শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি প্রদান করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এবিষয়ে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। ”
“বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে ঐক্যমত পোষণ করে আমরা কুয়েটের ভিসি মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি,” বলা হয় বিবৃতিতে।