চবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অপরাধে এক ছাত্রীকে স্থায়ী বহিষ্কারের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় অপর নয় জনকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় চবি উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমিকে স্থায়ী বহিষ্কার করার পাশাপাশি তার সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আফসানা এনায়েত এমি
মার্কেটিং বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোসাঃ সুমাইয়া (সুমাইয়া সিকদার) ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন পুতুল, যোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফৌজিয়া আহমেদ পল্লী মজুমদার, ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া মিথিলা, মেরিন সাইন বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এলিসা স্বর্ণা চৌধুরী, পুলিশ সায়েন্স বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রওজাতুল জান্নাত নিশা, চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ আশফিয়া নাহার এশা, ক্রিমিনোলজি এণ্ড পুলিশ সাইন্স বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বৃষ্টি ও ওশানোগ্রাফির ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাইসারা জাহান ইশাকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ এ তথ্য জানান তিনি বলেন, আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমিকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। উক্ত ঘটনায় আরো ৯ জনকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও সভায় ধর্ম অবমাননার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে একজনকে ২ বছরের জন্য এবং আরেকজনকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা হলের নামফলক ও হলের সামনে কংক্রিট নির্মিত নৌকা ভাঙতে গেলে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন ঐ হলের শিক্ষার্থীরা। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এক শিক্ষার্থী সহকারী প্রক্টর ড. মো. কোরবান আলীর গায়ে হাত তুলেন। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেয়া ও সাংবাদিকদের হেনস্তার মতো ঘটনাও ঘটে সেদিন।
এর আগে, সর্বকালের সর্বসেরা মহামানব হযরত মোহাম্মদ (স) কে অবমাননা করে ফেসবুকে পোস্ট বিরুপ মন্তব্য করে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২ শিক্ষার্থী।
তারা হলেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এস. এম. সানবিম সিফাতকে ২ বছরের জন্য এবং একই বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাফরিন সুলতানা।