প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ৭ জানুয়ারী , ২০২৫
দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের পদত্যাগ ও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়টির একদল শিক্ষার্থী। পরে তারা শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে সচিবালয়ে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে গত মাসের শেষের দিকেও ঢাকার বনানী এলাকার কামাল আতাতুর্ক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন প্রাইম এশিয়ার শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শুভময় দত্ত।
বিষয়টি নিয়ে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফফাত জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। পরে জানাব।”
সোমবারও বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
লিখিত বক্তব্যে বিবিএর শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান লিনা বলেন, ২০০৩ সালে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ দুই দশকেও বিভিন্ন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের দুর্নীতির কারণে নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরি করতে পারেনি। অস্থায়ী ক্যাম্পাসেরও ভাড়া বকেয়া রয়েছে। ক্লাসরুম সংকটের কারণে এক বছর ধরে বেশ কিছু ডিপার্টমেন্টের সব ধরনের ল্যাব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করার কথা বলেছিলেন কিন্তু গত চার মাসে নিজস্ব ক্যাম্পাসে নতুন করে একটি ইটও বসেনি।
ছাত্ররা বলেন, গত তিন বছরেরও অধিক সময় ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত ভিসি বা প্রো-ভিসি নেই। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের পছন্দের ব্যক্তিদের এসব চেয়ারে বসিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করে রাখা হয়েছিল।
নিজস্ব ক্যাম্পাস এবং অবৈধ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অপসারণের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১৬ দিন ধরে টানা আন্দোলন করে যাচ্ছেন।
সচিবালয়ের সামনে সংঘর্ষ
স্থায়ী ক্যাম্পাস ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ নয় দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের অবস্থান নেন। সেখানে তারা কিছু সময় অবস্থান করে শিক্ষা ভবনের রাস্তা হয়ে সচিবালয়ের সামনে যান। তারা দাবিদাওয়া নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে চান।
সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান।
“সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে তারা দরজা জানালা ভাংচুরের চেষ্টা করেছিল। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। এখন তারা সচিবালয়ের আশপাশে নাই,” বলেন ওসি।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী এক পথচারী জানান, “পৌনে ৩টার দিকে হঠাৎ দেখি পুলিশ ছাত্রদের মারতে শুরু করেছে। তখন কিছু ছাত্র উল্টা পুলিশের দিকে ঢিল মারতেছিল।
“পরে পুলিশ লাঠিপেটা করলে ও ফাঁকা গুলি ছুড়লে ছাত্ররা সচিবালয়ের সামনে থেকে চলে যায়।”