প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ২৬ মার্চ , ২০২৫
মহান স্বাধীনতার ৫৪তম বর্ষে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটের সময় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। এর কিছুক্ষণ পর ৬টা ১৩ মিনিটের সময় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান।
ভোরে রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধে পৌঁছলে সেখানে তাকে অভিবাদন জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। এই সময় শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদসহ তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেদিতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। এসময় রাষ্ট্রীয় সালাম শেষে বিউগলে করুণ সুর তোলেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে সই করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে সকাল ৬টা ১৩ মিনিটের দিকে স্মৃতি সৌধ এলাকায় আসেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। স্মৃতিসৌধে পৌঁছলে সেখানে প্রধান উপদেষ্টাকে এগিয়ে গিয়ে অভিবাদন জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। এই সময় শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদসহ তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে বেদিতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন প্রধান উপদেষ্টা। এসময় রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন এবং বিউগলে করুণ সুর তোলেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে সই করেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে উপস্থিত বিদেশি মিশনগুলোর কূটনীতিক, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কূশল বিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা।
পাকিস্তানি শোষণ-বঞ্চনার শৃঙ্খল ভেঙে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে স্বাধীন স্বদেশ বিনির্মাণের ৫৪তম বার্ষিকী পালন করছে বাংলাদেশ। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পথ ধরে তরুণ প্রজন্ম এখন স্বপ্ন দেখছে ‘বৈষম্যহীন’ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের; এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ঝরছে সেই পথে দৃঢ় থাকার প্রত্যয়।
পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার দিন উদযাপনে লাল-সবুজের বর্ণিল সাজে সেজেছে গোটা দেশ।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “গত ১৬ বছর দেশের মানুষ এই স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারে নাই। স্বৈরাচারী শাসক জগদ্দল পাথরের মত জনগণের ঘাড়ে চেপে বসে তাদের স্বাধীনতা ও মৌলিক সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সফল গণ-অভ্যুত্থান দেশের মানুষকে স্বৈরাচারের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করেছে।
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনমুখী ও টেকসই উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
তেইশ বছরের শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা।
২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী ইপিআরের বেতারে তার এই ঘোষণা প্রচারিত হয়।
এরপর নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের স্মরণে জাতীয়ভাবে মঙ্গলবার ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করেছে বাংলাদেশ। কালরাত স্মরণে এক মিনিট বাতি নিভিয়ে রাখার মত আয়োজনও ছিল।
সেই রাত পেরিয়ে বুধবার স্বাধীনতা দিবসে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটির দিনে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা আয়োজনে পালিত হবে গৌরবের দিনটি।
এবার এমন এক সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে, যখন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মাঠের রাজনীতিতে নেই।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনাবসানের পর দেশ চালাচ্ছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত ৫ অগাস্ট ভারতে পালিয়ে গিয়ে এখনও সেখানে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা; মাঠে নেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
জুলাই-অগাস্টে আন্দোলনকারীদের উপর ‘গণহত্যা’ চালানোর অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনার ‘স্বৈরশাসন’ পেরিয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইউনূস সরকার।