চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার , ৩১ আগস্ট , ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্ররাজনীতিতে আবারও তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন জোটবদ্ধ হয়ে প্যানেল ঘোষণার প্রস্তুতি নিলেও ছাত্র অধিকার পরিষদ জানিয়েছে, তারা এককভাবে প্যানেল দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র কেনা যাবে ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর এবং জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৭ সেপ্টেম্বর।
সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। তখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপরীতে ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ ১২টি সংগঠন ‘ছাত্র ঐক্য’ নামে যৌথ প্যানেল দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয় পায় ছাত্রঐক্য। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর আবারও নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জোট রাজনীতি।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে সক্রিয় সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ছাত্র অধিকার পরিষদ, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র মজলিস ও ইনকিলাব মঞ্চ। তবে ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ থাকায় তারা প্রতিযোগিতার বাইরে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান জানিয়েছেন, তাদের যৌথ প্যানেলের পরিকল্পনা আছে। তবে শিবিরের সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেছেন, তাঁরা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্যানেল করতে চান এবং আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিতে আগ্রহী।
বামধারার সংগঠনগুলোও বিভক্ত। একাংশে রয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), আরেক অংশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ও ইউপিডিএফ-সমর্থিত পিসিপি। এই দুই পক্ষ চাকসু নির্বাচনে আলাদা হয়েই অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির জানিয়েছেন, ছাত্রদলের সঙ্গে জোটের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে অনেক সংগঠন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অন্যদিকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি। সংগঠনের সদস্যসচিব আবির বিন জাবেদ বলেছেন, ছাত্রদল ও শিবির বাদে অন্য যেকোনো সংগঠনের সঙ্গে তারা জোট করতে পারে।
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) সম্প্রতি কমিটি গঠন করেছে। তাদের সদস্যসচিব আল মাসনূন বলেন, যারা ক্যাম্পাসে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, তাদের সঙ্গেই বসতে আগ্রহী তাঁরা। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্র মজলিসও জোটে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে ঐকমত্য না হলে তারা স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে অংশ নেবে।
অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, জোট না হলে তারা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একমাত্র ছাত্র অধিকার পরিষদ স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা একক প্যানেল দেবে। সংগঠনের সভাপতি তামজিদ উদ্দিন বলেন, “আমরা অন্য কারও সঙ্গে জোট করব না, ছাত্র অধিকার পরিষদ নামেই নির্বাচন করব।”
তফসিল ঘোষণার পর থেকে ক্যাম্পাসে সরব হয়েছে প্রায় সব ছাত্রসংগঠন। এখন সবার নজর মনোনয়ন জমার শেষ সময়ের দিকে। তখনই পরিষ্কার হবে, কোন সংগঠন কার সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, আর কারা এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।