প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: সোমবার , ২৪ মার্চ , ২০২৫
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারকে সেনাবাহিনীর পক্ষ আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
ওই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে সেনাবাহিনী ‘চাপ’ দিচ্ছে বলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর অভিযোগের মধ্যে সোমবার এই সহায়তা দেন তিনি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, “সোমবার সেনাবাহিনী প্রধান জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ এর পিতার নিকট আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
“গত ১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে রংপুরে আন্দোলন চলাকালীন নিরস্ত্র অবস্থায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ। মাতৃভূমির জন্য তার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে শহীদ আবু সাঈদের পিতা হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে রংপুর থেকে সিএমএইচ, ঢাকা'তে আনা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
“পরবর্তীতে, ২৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সেনাবাহিনী প্রধানের আমন্ত্রণে তিনি উপস্থিত ছিলেন।”
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে নতুন রূপে পুনর্বাসনের বিষয়ে সেনানিবাসের কাছ থেকে ‘চাপ’ পাওয়ার অভিযোগ করে শুক্রবার গভীরে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন ওই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা হাসনাত। ওই পোস্টে সেনাবাহিনী কোন কর্মকর্তার কাছে চাপ পাচ্ছেন, তা লেখেননি তিনি।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও এক ভিডিও ‘সাক্ষাৎকারে’ সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তোলেন। তাদের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
শনিবার নেত্র নিউজকে এক বিবৃতিতে সেনাসদর বলেছে, সেনানিবাসে খোদ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গেই ১১ মার্চ বৈঠকটি হয়েছিল। তবে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ‘ডেকে নিয়ে যাওয়া এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে তাদেরকে প্রস্তাব বা চাপ প্রয়োগে’র অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
বরং হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তার দলের আরেক মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের আগ্রহেই ওই বৈঠকটি হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সেনাসদর বলেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্টকে ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বৈ অন্য কিছু নয়’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে সেনা সদরের বিবৃতিতে।
এছাড়া ২৭ বছর বয়সী এই ছাত্রনেতার বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ক গল্পের সম্ভার’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে সেনাবাহিনী।