প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
ছাত্রদের নেতৃত্বে নতুন যে মধ্যপন্থি দল আসছে তা আত্মপ্রকাশের পর গণপরিষদ গঠন ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য রাজপথে নামবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক ভিত্তি: জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক কমিটি।
নাসিরউদ্দীন বলেন, “৭২ এর সংবিধান যদি বাতিল করতে না পারি তাহলে আগামীর পথ চলা অনেকাংশে কঠিন হবে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের অংশ হিসাবে এখন একটি গণপরিষদ গঠন করা হোক। এই গণপরিষদের মধ্য দিয়ে মানুষের সংবিধান তৈরি করা হোক। ১৯৪৭ সালে একটি লড়াই হয়েছিল, পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে আরেকটি লড়াই হয়েছিল। প্রতিটি লড়াইয়ের পর বিভিন্ন দল, গোষ্ঠী ও পক্ষের কাছে দলদাশ হয়ে বাঁচতে হয়েছে। ১৯৯০ সালে আমাদের কাছে একটা সুযোগ এসেছিল। কিন্তু আমরা মানুষের আকাঙ্খা পূরণ বা প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছি।”
চলতি মাসেই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। নতুন দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে পারেন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসির।
দল গঠনের আগে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও ৭২ এর সংবিধান বাতিলের দিকে জোর দিয়ে তিনি বলেন, “২০২৪ সালে এসে আমরা বলছি, বাংলাদেশে যে স্বৈরতান্ত্রিক সংবিধানের কারণে আমরা দুই হাজার ভাইবোনকে হারিয়েছি, ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে কাঁতরাচ্ছে। আগামীতে এই ধরনের কোনো রক্তপাত আমরা চাইনা। ব্রিটিশ যেভাবে আমাদেরকে হিন্দু মুসলিম শ্রেণিতে ভাগ করে রেখেছিল, বর্তমানে আমাদের সমাজে হেফাজত, জামায়াত, বিএনপি ইত্যাদি ট্যাগ দিয়ে বিভাজিত করে রাখার চেষ্টা চলছে।”
নতুন যে রাজনৈতিক দল আসছে সেটিকে মধ্যপন্থি দল হিসাবে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, !বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে ছাত্র সমাজের উদ্যোগে জাতীয় নাগরিক কমিটি একটি দল নিয়ে আসছে। এই দল হবে মধ্যপন্থি দল হবে। এই দলটি কোনো বাইনারি প্রসেসে যাবে না। কোনো মতাদর্শিক বিভাজনে যাবে না। মতাদর্শিক বিভাজনের কারণে সামাজিক সম্প্রীতি ভেঙে পড়ছে। সামাজিকভাবে আমাদেরকে ঐক্যের জায়গাটা গড়তে হবে। এই ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে যেই মানুষগুলো আহত হয়েছে, শহীদ হয়েছে তাদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে অবস্থান নিতে হবে।”
আগামী নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানান নাছির।
বলেন, “আগামী নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগকে যদি নিবন্ধন বাতিল করা না যায়, তাহলে জনগণের সামনে গভীর সঙ্কট অপেক্ষ করছে। বাংলাদেশকে একটা সিভিল ওয়ারের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। এজন্য সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো- যারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল, ভাইদেরকে শহিদ করেছিল তাদের প্রতি ও তাদের দোষরদের প্রতি দয়া দেখাবেন না। সামাজিক ও পারিবারিকভাবে তাদেরকে বয়কট করুণ। বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন। আওয়ামী লীগের একমাত্র সমাধান হলো, তাদেরকে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্য দিয়ে যেতে হবে। যারা খুনের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের বিচার করতে হবে। এবং আওয়ামী লীগ নামের ব্যানারটি একটি খুনের দায়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা করুন।
“পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে একটি গণপরিষদ নির্বাচনের দিকে কিভাবে যেতে পারি সে বিষয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলগুলোকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ছাত্র জনতার যে দলটি আসছে, জনগণের সামনে আমাদের রাজনৈতিক লড়াই হবে গণপরিষদ নির্বাচন। একটি নতুন সংবিধান। এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে পথে প্রান্তরে বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করবো। জনতা যেভাবে ২৪ সালে জেগে উঠেছে, রাজপথে আবারও দেখা হবে। আমাদের সামনে আসবে এক নতুন সংবিধান,” বলেন তিনি।