শাবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ১২ মার্চ , ২০২৫
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তিতে সব ধরনের কোটার ব্যবহার আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮০তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে সকল ধরনের কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটামও দেয় শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারে ২৮টি বিভাগ মিলে আসন আছে ১ হাজার ৬৭১টি। এর মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগে (এ ইউনিট) ৯৮৫টি এবং সামাজিক বিজ্ঞান ও বাণিজ্য অনুষদভুক্ত বিভাগে (বি ইউনিট) আসন আছে ৫৮১টি। এ ছাড়া কোটায় ১০৫টি (অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচনা) আসন আছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২৮টি, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী/জাতিসত্তা/হরিজনুদলিত কোটা ২৮, প্রতিবন্ধী কোটা ১৪, পোষ্য কোটা ২০, চাুশ্রমিক কোটা ৫ ও বিকেএসপি (খেলোয়াড়) কোটায় ১০টি আসন আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত তিনটি ভর্তি কমিটির তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ২০২১ু২২ শিক্ষাবর্ষে কোটায় ৪৬ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পোষ্য কোটায় ১৮ জন, চাুশ্রমিক কোটায় ৩, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৬, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটায় ১১ ও প্রতিবন্ধী কোটায় ৮ শিক্ষার্থী। ২০২২ু২৩ শিক্ষাবর্ষে কোটায় ভর্তি হন ২৩ জন। এর মধ্যে পোষ্য কোটায় ৯ জন, মুক্তিযোদ্ধায় ২, চাুশ্রমিকে ৩, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীতে ৭ ও অলিম্পিক কোটায় দুই শিক্ষার্থী। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৯। এর মধ্যে পোষ্য কোটায় ১৫ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৯, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী/জাতিসত্তা বা হরিজন/দলিত কোটায় ১৯, প্রতিবন্ধী কোটায় ১১, চাুশ্রমিক কোটায় ৩ ও বিকেএসপি (খেলোয়াড়) কোটায় দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী জানান, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের ভর্তিতে আপাতত সব ধরনের কোটা স্থগিত করা হয়েছে। ভর্তিতে কোটার ব্যবহার নিয়ে ভর্তি কমিটি অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে যৌক্তিক কোটা রাখা নিয়ে একটি সুপারিশ করবে, সেই আলোকে ভর্তির ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।