ইবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার , ৭ জুলাই , ২০২৫
পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের নামে থাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারটি আবাসিক হল ও একটি একাডেমিক ভবনের নাম গত ৫ মার্চ ২৬৭তম সিন্ডিকেট সভায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন নামফলক স্থাপন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শাহ আজিজুর রহমান’ হল, শেখ রাসেল হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আনাছ’ হল, ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ হলের নাম পরিবর্তন করে ‘উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা’ হল, শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে ‘জুলাই-৩৬’ হল রাখা হয়েছে।
এছাড়া ‘ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন’ এর পরিবর্তে নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবন’।
সরেজমিন সোমবার (৭ জুলাই) সংশ্লিষ্ট হল ও ভবনগুলোর মূল ফটকে নতুন নামযুক্ত অস্থায়ী ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। যার বেশিরভাগেরই অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। ফলে এখনও আগের নামই বিদ্যমান। অনেকক্ষেত্রে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পূর্ববর্তী নামগুলোই ব্যবহৃত হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক শিক্ষার্থী বলেন, এ দেশ থেকে ফ্যাসিস্ট বিদায় হিয়েছে এক বছর হলো, স্থাপনার নাম পরিবর্তনেরও চার মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও পরিবর্তিত স্থাপনার নামফলকগুলো পরিবর্তন হয়নি। প্রশাসনের অবহেলা ও উদাসীনতার জন্য এই নামফলকগুলো এখনো পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এসএস সুইট বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পার হয়ে গেলেও শেখ পরিবারের নামে থাকা স্থাপনার নাম এখনো দৃশ্যমান। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যে যে ভবনগুলোর নাম পরিবর্তন হয়েছে দ্রুত সময়ের ভিতরে এই নামগুলো পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. গফুর গাজি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেহেতু স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছেন এখন এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব হল প্রভোস্টদের ওপর বর্তায়। শুধু হলের নাম না, হলের ভিতরে নিষিদ্ধ সংগঠনের বিভিন্ন লেখা এখনো দেখা যাচ্ছে এগুলোর প্রতিও নজর দিতে হবে।
পরবর্তী প্রভোস্ট কাউন্সিলের মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।