প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ১৩ নভেম্বর , ২০২৫
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ তারিখ নির্ধারণ করে।
ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ অক্টোবর জুলাই অভ্যুত্থান দমনকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। একই বছরের ১০ জুলাই আদালত শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
তাদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে—
১️. আন্দোলন দমনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া।
২️. প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ।
৩️. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা।
৪️. ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা।
৫️. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
এ মামলায় সাবেক আইজিপি মামুন আদালতে দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকেও আদালতে হাজির করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে যারাই জড়িত, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছি।”
অ্যাটর্নি জেনারেল যুক্তিতর্কে বলেন, “যদি এই দুই আসামির (শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান) বিচার না হয়, তাহলে বাংলাদেশ ভীরু জাতি হিসেবে উপহাসের পাত্র হয়ে থাকবে। আদালত নিশ্চয়ই সর্বোচ্চ সাজা দেবেন।”
অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা খালাসের আবেদন জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান বলে জানা যায়। আসাদুজ্জামান খান কামালও পলাতক। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
এদিকে রায় ঘোষণার তারিখ ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হাই কোর্ট মাজারসংলগ্ন এলাকায় পুলিশ, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। স্থাপন করা হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট ও সাঁজোয়া যান।
বুধবার থেকেই ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কড়া তল্লাশি চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য, পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে আছেন।
এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ১৭ নভেম্বরের রায়কে ঘিরে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন—সেই আদালতে, যা একসময় তার সরকারই প্রতিষ্ঠা করেছিল।
সবকিছু এখন নির্ভর করছে ১৭ নভেম্বরের রায়ের ওপর, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।