মহসিন, চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার , ২ মার্চ , ২০২৫
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাত্র সাতমাস আগেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সরকার দলীয় সংগঠন ছাড়া কারও অস্তিত্ব ছিল না।
সপ্তাহ অন্তত একদিন করে ছাত্রলীগের উপদলগুলো নিজেদের মধ্যে গন্ডোগোল পাকিয়ে ক্যাম্পাসি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতো।
তবে এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব এক শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির অবতারণা হয়েছে। ছাত্রনেতারা মনে করছেন এমন একটি পরিস্থিতি বজায় থাকাই সবার কাম্য।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতা করতে একই ছাউনির নিচে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভর্তি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন রাজনৈতিক সম্প্রীতির নজির গড়েছে। একইসাথে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোও তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে।
১লা মার্চ (শনিবার) চবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরুর দিনে ক্যাম্পাসজুড়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থানের এ চিত্র দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামি ছাত্রশিবির বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনের ১টি করে হেল্প ডেস্কসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের পাশেই বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ ও পাশাপাশি স্টল দেয় ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছাত্র অধিকার পরিষদের স্টল।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসীন বলেন, বর্তমানে সহাবস্থানের ছাত্র রাজনীতি হওয়া উচিৎ যা আমরা কিছুটা দেখতে পাচ্ছি। আশা করব ভবিষ্যতেও এ সম্প্রীতি বজায় থাকবে এবং আমরা জুলাই আন্দোলনে যেভাবে দল, মত, নির্বিশেষে স্বৈরাচারকে পতন ঘটিয়েছি আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণেও সবার জায়গা থেকে সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ পুনর্গঠনে কাজ করে যাব।
শাখা শিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রশিরির ধারাবাহিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ৫টি বুথের মাধ্যমে আমরা ফ্রি মেডিসিন, পানি এবং অন্যান্য সেবা দিচ্ছি আরো দিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি অন্যান্য সংগঠনগুলোকেও আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি সুন্দর সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য। প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি তারা গার্ডিয়ান প্যাবিলিয়নের ব্যবস্থা করেছে।
শাখা শিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী বলেন, ইসলামী ছালশিবির সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। স্বৈরাচারের সময়ে আমাদেরকে এ জায়গাগুলো থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তবুও তখন আমরা ছাত্রদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরো বলেন, সকল রাজনৈতিক সংগঠন পজিটিভ কাজ করছে এটি ভালো একটি দিক। ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে পজিটিভ প্রতিযোগিতা বজায় থাকাই হচ্ছে বড় কথা। নতুন বাংলাদেশে ছাত্রদের কল্যাণে পজিটিভ প্রতিযোগিতা পূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা উচিৎ।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মামুন উর রশিদ মামুন বলেন, “আমরা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। বিশটি বাইকে সার্ভিসসহ ৩০০ নৈতাকর্মী কাজ করছি। যারা পরবর্তীতে চান্স পাবে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে যাবতীয় সহযোগিতা করে যাব।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, “আমরা আমাদের এ হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছি যা অব্যাহত থাকবে। আমরা সবসময় মনে করি ছাত্র রাজনীতি হবে ছাত্রদের কল্যানে যার জন্য সহাবস্থানের রাজনীতি অত্যন্ত প্রয়োজন।”
২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, সহাবস্থানের এ ছবিটা সুন্দর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পরিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য শিবির আর ছাত্রদলের অবস্থান একই জায়গায়। দেশের সব ক্যাম্পাসেই ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান, সম্মান, সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের সম্পর্ক গড়ে উঠুক এভাবেই।
শনিবার (১ মার্চ) থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের ভর্তিযুদ্ধ। বিভাগীয় পর্যায়ে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একযোগে চবির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে, উপ-ইউনিটগুলোর ভর্তি পরীক্ষা চবি ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট আবেদন করেছেন ২ লাখ ৭১ হাজার ২৩৯ জন শিক্ষার্থী। যা গত বছরে ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৯ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।