প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
ভারতের মাটিতে বসে বিতাড়িত শেখ হাসিনার বাংলাদেশ বিরোধী চক্রান্ত ও একটি অনলাইন ভাষণের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের কর্মীরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ‘বঙ্গবন্ধুর বাড়ি’ ও জাদুঘর হিসাবে পরিচিত বাড়িটি হাতুড়ি, শাবল ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
বুধবার রাত ৯টায় অনলাইনে দলীয় প্ল্যাটফর্মে শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার কথা দিনভর শোনা যাচ্ছি। এর প্রতিক্রিয়ায় বিপ্লবী ছাত্র জনতা একই সময়ে প্রায় পরিত্যক্ত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাড়িটি ভেঙে দিতে ‘বুলডোজার মিছিল’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। প্যারিসে অবস্থানরত বাংলাদেশি লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য কর্মসূচির সঙ্গে একাত্ম হয়ে পোস্ট করেন।
এই সেই বুলডোজার
তবে সময়ের আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু সময় পর কয়েকশ ছাত্র জনতা লাঠি, হাতুড়ি, সাভল ও অন্যান্য দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে বঙ্গবন্ধু মিউজিয়াম নামের বাড়িটিতে হামলে পড়ে। ঘণ্টাখানের মধ্যে সেখানে হাজার হাজার জনতা সমবেত হয়।
ভেতর থেকে ‘নারায়ে তাকবীর’, 'জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই কর' এসব স্লোগানের পাশাপাশি ‘দিল্লি না ঢাকা, আবু সাঈদ-মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘জনে জনে খবর দে, মুজিববাদের কবর দে’– ইত্যাদি স্লোগান শোনা যায় এ সময়।
বাড়ির ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি
রাত ৯টার কিছু সময় আগে এ্যালিফ্যান্ট রোড হয়ে যখন একটি বুলডোজার চালিয়ে আনা হচ্ছিল পথে জনতার ভিড়ে বার বার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল বুলডোজার মিছিল।
বিমানবন্দর থেকে আসা সাহাবুদ্দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, এটি বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের প্রধান আইকন। এখানে বঙ্গবন্ধুর পূজা করা হতো। আর তার নাম করে সারাদেশে চালানো হতে ভারতীয় শাসন। গত ১৫ বছরে মানুষের ওপর সব ধরনের অত্যাচার নির্যাতনের পেছনে শাক্তি যুগিয়েছে এই ধরনের বাড়ি। ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটনের অংশ হিসাবে আমরা আজকে এই বাড়ি ভেঙে দিলাম।
এদিকে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের নামে গড়ে উঠা স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ছাত্ররা মিছিল নিয়ে এসে মুছে দেন। সেখানে নতুন নাম রাখা হয় ‘বিজয় ২৪ হল’।
একই সময়ে খুলনায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ‘শেখ বাড়ি’। এটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচার বাড়ি।
এই বাড়িতে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল, শেখ সোহেলসহ আরও কয়েক ভাই থাকতেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ফেইসবুকে এই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করে লিখেন- আজ রাতে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে। ফ্যাসিবাদের চিহ্ন বিলোপের সাথে সাথে খুনী হাসিনাসহ গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত এবং আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
সিলেটে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বঙ্গুবন্ধুর ম্যুরাল।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, “সিলেটে জেলা প্রশাসন কার্য়ালয়ে থাকা শেখ মুজিবের ম্যুরাল গুড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। ছাত্র-জনতাসহ সবার উপস্থিতিতে এটি চলছে। এটার পর সাস্টের (শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়) মুর্যাল গুড়িয়ে দেওয়া হবে।”