বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, ইবি প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আইন বিভাগ ও আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলা হয়েছে। সোমবার সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করা হয়।
এদিন বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলেন আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া, আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম ও দাওয়াত অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুল বান্না অলি।
শিক্ষার্থী জাকারিয়া বলেন, চব্বিশের গণআন্দোলনের শুরু থেকেই আমি সামনের সারিতে ছিলাম। একটি মহল আমার মানহানি করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পহেলা ফেব্রুয়ারি রাতে আমি আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেটে ছিলাম। ওই দিন মারামারি সময় উৎসুক জনতা হিসেবে আমি পরিস্থিতি দেখতে গেছি। সেখানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সমন্বায়ক প্যানেলের অনেকেই ছিলেন। ওই সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মব জাস্টিসের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে দেখে উভয় পক্ষকেই শান্ত করতে গিয়েছিলাম। অথচ ওই ঘটনায় আমাদের বিরুদ্ধে ইন্ধন যোগানোর গুজব ছড়ানো হয়েছে, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আশা করছি, গঠিত কমিটির তদন্তে সঠিক তথ্য উঠে আসবে।
আরেক শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনাটা মেইন গেট কেন্দ্রিক। আর একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমার থাকাটা স্বাভাবিক। মোস্তাফিজ স্যার জামালপুর যাবেন, উনাকে সহযোগিতা করার জন্য আমি স্যারের সাথে ছিলাম। ঘটনাক্রমে মেইনগেট পৌঁছে দেখি একটা গ্যাঞ্জাম হচ্ছে। অথচ, ওই মারামারি ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। যার কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই।
শিক্ষার্থী হাসানুল বান্না অলি বলেন, আমি ওখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীরা মবের দিকে আগাচ্ছে। তখন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করি মাত্র। দুই পক্ষকে থামাতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী, প্রক্টর, শিক্ষার্থী অনেকের সঙ্গে ছবি উঠেছে।
এর আগে রোববার একই ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রক্টর অফিসে বাসের সিট ধরার ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিব তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং এ বিষয়ে লিখিত মুচলেকা দিতে সম্মত হন। এই সিদ্ধান্তকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানান। তবে মিটিংয়ের এই সিদ্ধান্ত বাহিরে জানাতে গেলে সেখানে উপস্থিত আল ফিকহ ও অন্য অনুষদের কিছু শিক্ষার্থী বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়। এরপর তারা আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত ও পরিকল্পিত হামলা চালায়। এ হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ত ও ইন্ধনদাতা ছিল জাকারিয়া (বঙ্গবন্ধু হল), আমিনুর (জিয়া হল), হাসানুল বান্না (লালন হল)।
উল্লেখ্য, বাসের সিট ধরাকে কেন্দ্র করে ইবির দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শনিবার রাতে দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও শিক্ষক আহত হয়েছেন।