ববি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার , ৩০ আগস্ট , ২০২৫
অবৈধ পদোন্নতির খেসারত হিসাবে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা লোকসান গুনছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিষয়টি ধরার পর তাদের বেতন-ভাতা বরাদ্দ বন্ধ করলেও পদোন্নতি বাতিল করা হয়নি। বরং সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা এখন আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এ পদোন্নতি বৈধ করার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম দফায় পদোন্নতি নিয়ে ইউজিসির নিরীক্ষা আপত্তি ওঠে। সেই আপত্তি সমাধান না করেই গত ৩০ জুন (২০২৪) আবারও নতুন করে ১৮ জনকে সেকশন অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। দুই দফায় মোট ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অর্গানোগ্রামের বাইরে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী পরিচালক (লাইব্রেরি) ১ জন, সহকারী রেজিস্ট্রার (ডিন অফিস) ৫ জন, সহকারী রেজিস্ট্রার (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস) ১ জন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৪৫ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ১ জন এবং রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কুকার পদে ৫ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৯ ও ২০ নভেম্বর ইউজিসির বাজেট পর্যবেক্ষণ দল এ পদোন্নতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। তারা উল্লেখ করে—অর্গানোগ্রামে পদ না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ/পদোন্নতি ও বেতন-ভাতা প্রদান নিয়মবহির্ভূত এবং এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এ ৬০ কর্মকর্তার বেতন-ভাতার কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
তবুও বর্তমানে এ পদোন্নতিপ্রাপ্তরা বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উপাচার্যদের চাপ প্রয়োগের কারণেই এ অবৈধ পদোন্নতি হয়েছে এবং এখনও সে চাপ বিদ্যমান।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত আল আমিনকে ফোন করা হলে তিনি ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে জানাবেন বলে কল কেটে দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পদোন্নতিপ্রাপ্ত বলেন, পুরোনো অর্গানোগ্রামের কারণে জটিলতা হচ্ছে। তাই দ্রুত অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনের দাবি জানান তারা।
ববির উপপরিচালক (অর্থ ও হিসাব) এএসএম ইকবাল মিঞা বলেন, “তাদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানাতে পারবেন।”
প্রক্টর ড. রাহাত ফয়সাল বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, তাই বিস্তারিত জানি না।”
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ইউজিসির অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের পরিচালক রেজাউল করিম হাওলাদারকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।