প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ২৪ এপ্রিল , ২০২৫
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ‘জঙ্গি’ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি টেনে এনেছে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেছে, গত ৮ মাসে বাংলাদেশ ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে’ পরিণত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারতের কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে যে ভয়াবহ জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে নিরপরাধ পর্যটকদের হত্যা করা হয়েছে তার জন্য আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
“আমরা বিশ্বাস রাখি, বিশ্ব সভ্যতায় মানবতাবিরোধী এ ধরনের জঘন্য অপরাধের কোনো জায়গা নেই এবং এই জঙ্গি সংগঠনগুলো ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে মানুষ হত্যার মাধ্যমে ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত দেয়। এই সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠীকে যারা মদদ দিচ্ছে, তারাও মানবতার শত্রু এবং তাদের প্রতিও আমরা চরম ঘৃণা প্রকাশ করছি।”
আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একত্রে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই, গত ৮ মাসে বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। চিহ্নিত শীর্ষ জঙ্গি সন্ত্রাসীদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ ধর্মের ভিত্তিতে নিপীড়নের শিকার।
“একদিকে তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, গণধর্ষণ করা হচ্ছে এবং তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে এ সকল অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে।”
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর থেকে ভারত সরকারের আশ্রয়ে দিল্লীতে আছেন তিনি।
দেশে জনরোষের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, কেউ পালিয়েছেন বিদেশে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৪০ হাজার নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান করার তথ্য এসেছে সংবাদমাধ্যমের খবরে।
মাঠ থেকে অনেকটা বিতাড়িত আওয়ামী লীগ ভারত থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বেশিরভাগ কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমের খবর। দেশে-বিদেশে অবস্থানকারী নেতাকর্মীরাও অনলাইনে বেশ সক্রিয়।
গত মঙ্গলবার বিকেলে কাশ্মীরের পেহেলগামের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বৈসারণ উপত্যকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের একজন ছাড়া সবাই ভারতীয়। নিহত একমাত্র বিদেশি পর্যটক নেপালের নাগরিক।
ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ভারতের জনগণের পাশে আছি এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে ভারতকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
“সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান। আমরা বিশ্বাস করি, এই সন্ত্রাসী-জঙ্গিগোষ্ঠীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সমুন্নত হবে এবং পৃথিবী আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।”