প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ৩০ অক্টোবর , ২০২৫
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হলেও এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত হাসিনার সাক্ষাৎকার বুধবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশ করেছে রয়টার্স, এএফপি ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করে বলেন, তার বিরুদ্ধে চলমান বিচার ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসার অংশ’। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে। হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ—বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভ্যুত্থানে নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ এবং আহত হয় আরও কয়েক হাজার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম হাসিনাকে ‘সব অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু’ আখ্যা দিয়ে তার মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছেন।
তবে হাসিনা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে দাবি—আমি বাহিনীকে আন্দোলনে গুলি চালাতে বলেছি—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
তিনি স্বীকার করেন, “চেইন অব কমান্ডে কিছু ভুল অবশ্যই হয়েছিল,” তবে দাবি করেন, “আমার কোনো প্রত্যক্ষ নির্দেশ ছিল না।”
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই দেশের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফোন রেকর্ডে হাসিনাকে তার ভাতিজা ও সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসকে ‘লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করতে বলছেন’ বলে শোনা যায়। কিন্তু হাসিনা এএফপিকে বলেন, ‘অডিওটি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
আদালত প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে ট্রাইব্যুনাল চলছে, তা একপ্রকার ক্যাঙ্গারু কোর্ট। রায় আগেই নির্ধারিত।”
তিনি অভিযোগ করেন, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি, যদিও তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ বা কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেননি।
হাসিনা বলেন, নিহতদের জন্য তিনি ‘গভীর শোক প্রকাশ’ করছেন, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবেন না। তার দাবি, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে সহিংসতা উসকে দিয়েছিল।’
তিনি অভিযোগ করেন, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ‘আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।’
তার ভাষায়, “লাখো মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”
দিল্লিতে অবস্থান নিয়ে হাসিনা বলেন, তার ‘দেশ ত্যাগ বা ভারতে স্থায়ী আশ্রয়ের’ কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি বর্তমানে ‘শান্তিপূর্ণভাবে ও সতর্কভাবে’ বসবাস করছেন এবং চান ‘বাংলাদেশে সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরুক।’
হাসিনার মতে, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের হাতে নয়—জনগণের হাতে।’ তার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যা চায়, সেটি দিতে হলে ইউনূসকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনর্বহাল করতে হবে।’