বেরোবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ১৯ আগস্ট , ২০২৫
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। অনশন শুরুর ৩৬ ঘণ্টা পর উপাচার্যের লিখিত বিবৃতি দিলে দুজন শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে সরে এলেও বাকিরা এখনো কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিবলি সাদিক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মুশফিকুর রহমান সোমবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সামনে অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন।
শিবলি বলেন, “আমরা শুধু চাইছিলাম প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে রোডম্যাপ দিক। ভিসি স্যার সময় চেয়েছেন, আমি সেটার সঙ্গে একমত।”
মুশফিকুরও প্রশাসনের আশ্বাসে আস্থা রাখেন। তবে তাদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোল হয়। আন্দোলনকারীদের একাংশ অভিযোগ তোলে, এ সিদ্ধান্ত ‘সাংগঠনিক প্রভাবের ফল।’
রোববার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের উত্তর ফটকে অনশন শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্র সংসদের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হলেও এখনো কোনো নির্বাচন হয়নি।
তারা দাবি তুলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
এদিকে টানা অনশনে সাতজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোমবার দুপুরে জাহিদ হাসান ও মাহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে নিতে হলেও তারা পরে আবার আন্দোলনে ফিরে আসেন। রাতে আরেক শিক্ষার্থী কায়সার আহমেদকেও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
অন্যদিকে, উপাচার্য শওকাত আলী এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র সংসদকে ‘শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি’ উল্লেখ করে আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে গঠনতন্ত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তিনি জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিশেষজ্ঞ কমিটি সেটি পরীক্ষা করছে। অনুমোদন হয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশের পর অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, মৌখিক আশ্বাস নয়, দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও সুনির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণাই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির হস্তক্ষেপে দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে বলে সতর্ক করেছেন তারা।