প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: সোমবার , ৩১ মার্চ , ২০২৫
শেখ হাসিনার সরকার পতনের গণঅভ্যুত্থানে জনগণের যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখার তাগিদ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজের পর মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, সব প্রতিকূলতার সত্ত্বেও সেই ঐক্য অটুট রাখতে হবে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় হাই কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, সচিবসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ জামাতে অংশ নেন।
ঈদগাহের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। ক্বারী হিসেবে ছিলেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
পরে মুসল্লিদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়তে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, আহত হয়ে যারা স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছে তাদের জন্য দোয়া করব। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য গড়ে হবে।
“আমরা যেন স্থায়ী একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে পারি সেজন্য কাজ করতে হবে। যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে নিজেদের আত্মাহুতি দিয়েছেন আমরা অবশ্যই তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। যত বাধাই আসুক ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”
তিনি আরও বলেন, “ঈদ নৈকট্য আদায়ের দিন, ভালোবাসার দিন। এই দিনটি যেন আমরা ভালোভাবে আদায় করতে পারি, আমরা যেন সবার কাছে পৌঁছে যেতে পারি সেই আহ্বান রইল। আজ একটা অটুট ঐক্য গড়ে তোলার দিন।
“স্থায়ীভাবে এই ঐক্য গড়ে তুলতে চাই। ঈদের জামাতে আমাদের এই কামনা। আজ মোনাজাতে তাদেরকে স্মরণ করব দোয়া করব, যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। সবাই যেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করি।”
পরে জাতীয় ঈদগাহে আসা সাধারণ মুসল্লিদের কাছে গিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ড. ইউনূস। এ সময় মানুষজনকে সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফ সদস্যদের।
শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি ভিডিওতে ‘ড. ইউনূসের সরকার, বারবার দরকার’, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বারবার দরকার’- এমন স্লোগানও শোনা গেছে।