ঢাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার , ১৪ জুলাই , ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের ছাত্র এবং জগন্নাথ হলের বাসিন্দা সঞ্জয় বাড়াইক আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (১৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টায় জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঘটনার আগেই নিজের ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন সঞ্জয় বাড়াইক। সেখানে তিনি লেখেন,
“আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি দিনের পর দিন কাউকে ডিস্টার্ব করে গেছি। উলটো মানুষকে দোষারোপ করা একদম ঠিক হয়নি। আমি সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি দিনের পর দিন অন্যায় করেছি। নিজের দোষ ঢেকে অপরজনকে দোষ দেওয়া আমার ঠিক হয়নি। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমার কারণে কারও কোনো ক্ষতি হলে সে দায় একান্তই আমার।”
তার এমন স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বন্ধুমহলে গভীর বিষণ্নতা ও আত্মোপলব্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “ভোরবেলায় খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সঞ্জয় বাড়াইকের লাশটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে লাশ ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সঞ্জয়ের বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লাশ তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে নিয়ে যাবেন।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, “লাশ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।”
সঞ্জয় বাড়াইকের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী ও বন্ধুদের চোখে তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল ও বন্ধুবৎসল একজন মানুষ। তবে ব্যক্তিগতভাবে মানসিকভাবে তিনি চাপে ছিলেন কিনা—তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি আত্মহত্যা হলেও এর পেছনে কী কারণ ছিল তা স্পষ্টভাবে জানা দরকার। কেউ কেউ মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং সহায়তাহীনতাকেও দায়ী করছেন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “সঞ্জয় এমন করবে ভাবতেই পারছি না। আমরা তার ভেতরের কষ্ট বুঝতে পারিনি—এই অপরাধবোধ নিয়ে হয়তো আমাদের অনেক দিন কাটাতে হবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে—বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে। আত্মহত্যার আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রকাশিত আত্মগ্লানি ও অনুশোচনা তার মনের যন্ত্রণার চিত্রই তুলে ধরে।