প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ২৩ মার্চ , ২০২৫
ধর্মীয় সম্প্রীতির উদাহরণ তৈরি করতে গণ ইফতারের আয়োজন করল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিতে যুক্ত দলিত-হরিজন সম্প্রদায়ের নেতারা।
রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে নেভি হাউজের গলিত এ ইফতার আয়োজনে দিন মজুর, খেটে খাওয়া শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এবারের রোজায় প্রতিদিনই এখানে গণ ইফতার আয়োজন করে চলেছে এনসিপি।
ইফতার সংস্কৃতিতে দলিত হরিজন সম্প্রদায় কর্তৃক এটিই প্রথম কোন ইফতার বলে দাবি করছেন আয়োজকরা।
ইফতারের আগ মুহূর্তে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, "জাতীয় নাগরিক কমিটি যে নতুন ধারা রাজনীতি চালু করতে চেয়েছে সেখানে মুসলিম হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার জন্য একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ নিয়েছে। আমাদের রাজনীতিতে আমরা মধ্যমপন্থা চর্চার কথা বলেছি। আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে আবেদন রাখতে চাই, তরুণরা যে বার্তা নিয়ে এসেছে আপনারা সেই বার্তায় সায় দেবেন।"
"আমরা তরুণরা কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের ভুল করতে পারি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের জনগণ আমাদেরকে শুধরে দিবেন।"
ইফতার আয়োজনের জন্য দলিত সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে আখতার বলেন, "বাংলাদেশের দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ আজকে মুসলিমদের জন্য ইফতার নিয়ে এসেছে, ইফতারে সামিল হয়েছে। এটা বাংলাদেশের সম্প্রীতির আকাঙ্ক্ষায় একটি সুখকর বার্তা। দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সকল ধর্মের মানুষ প্রত্যেকে প্রত্যেকের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াবে। বিদেশীরা বাংলাদেশের ধর্মীয় বিভাজনকে উস্কে দিয়ে আগ্রাসন চালাতে চায়। এবিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। বিগত দিনে বাংলাদেশে যে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি হয়েছে এনসিপও কোনোভাবেই তা আর হতে দেবে না।"
জাতীয় নাগরিক পার্টি এমসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহম্মদ বলেন, "আজকে আমাদের জন্য একটা আনন্দের দিন। বাংলাদেশের সাত শতাংশ জনগোষ্ঠী তফসিলি সম্প্রদায় বা সিডিউল কাস্ট। তারা সংখ্যালঘুর মাঝেও সংখ্যালঘু। আজকে এই সম্প্রদায়ের ভাইয়েরা যেভাবে ইফতারের আয়োজন করেছেন এটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির। বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকবে। মুসলিম ভাই যেভাবে হিন্দু ভাইয়ের মন্দির পাহারা দিতে গিয়েছিল, তেমনিভাবে আজকে দলিত ভাইয়েরা মুসলিম ভাইদের মুখে ইফতার তুলে দিতে এসেছে। ভবিষ্যতে ধর্মের নামে জাতের নামে কাউকে যেন ছোট করা না হয় এটা সবাই খেয়াল রাখবেন।"
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু বলেন, "জাতীয় নাগরিক পার্টির মধ্যপন্থী রাজনীতি নিয়ে এসেছে। সেখানে সকল ধর্ম, সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে থেকে রাজনীতি করবে। বিগত ৫৩ বছরে আমরা রাষ্ট্রের কোন পর্যায়ে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। জাতীয় নাগরিক পার্টির মাধ্যমে আমরা নতুন করে রাজনীতিতে যুক্ত হলাম।"
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক রবিদাস সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস বলেন, "বাংলাদেশ শুধুমাত্র একটা সম্প্রদায়ের নয়। এখানে হিন্দু মুসলিম খৃষ্টান, বৌদ্ধ, আদিবাসী, দলিত, হরিজন, তফসিলিসহ সকল মানুষের বাংলাদেশ। বাংলাদেশ একটা অসাম্প্রদায়িক দেশ, সকল সম্প্রদায়ের দেশ। এর উদাহরণ হচ্ছে আজকে দলিত, হরিজন সম্প্রদায়ের আয়োজনের ইফতার।"
"এতদিন এই সম্প্রদায়গুলো ঐতিহাসিকভাবে, কাঠামোগতভাবে, পদ্ধতিগতভাবে, আইনগতভাবে বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছিল। নতুন বাংলাদেশে, চব্বিশের বাংলাদেশে এই বৈষম্যগুলো দূর করার সময় এসেছে। সবাই মিলে একটা নতুন বাংলাদেশ পাব স্বপ্নের বাংলাদেশ পাবো এই প্রত্যাশা করি," বলেন তিনি।
ইফতার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা, এনসিপির সংগঠক সানা উল্লাহসহ অন্যান্যরা।