Sadek প্রকাশিত: বুধবার , ৮ অক্টোবর , ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটার প্রভাবিত করা, অর্থ ও উপহার বিতরণের অভিযোগ করেছে দুই সংগঠনই।
মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। পরে বিকেলে পালটা অভিযোগ দেয় ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’।
‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের নেতারা অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে বিভিন্ন হলে ও বিভাগে শিক্ষার্থীদের খাবার, উপহার ও নানা উপঢৌকন দিচ্ছে। এতে নির্বাচন প্রভাবিত হচ্ছে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হচ্ছে।
তারা আবেদনপত্রের সঙ্গে ছাত্রী হলের প্রজেকশন মিটিংয়ে খাবার বিতরণের ছবি ‘প্রমাণ’ হিসেবে যুক্ত করেন।
প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবির বলেন, “ছাত্রশিবির শুরু থেকেই কালো টাকা ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন উপহার, খাবারের প্যাকেট, আতর বিতরণ করছে। আমরা বারবার অনুরোধ করেও তাদের এসব কার্যক্রম বন্ধ করতে পারিনি। এখন তারা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। আমরা প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছি, আশা করি কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”
অন্যদিকে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের অভিযোগ, ছাত্রদল নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ক্লাসরুমে ও নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রচার চালাচ্ছে। এমনকি ভোটার নন এমন ব্যক্তিরাও তাদের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।
তারা আরও দাবি করেন, আরবি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোট প্রভাবিত করতে ছাত্রদল ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদান করেছে।
প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা বলেন, “ছাত্রদল এর আগেও আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে, কিন্তু আমরা সহনশীলতার জায়গা থেকে অভিযোগ করিনি। রাকসু নির্বাচন যেন সবার জন্য উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সে কারণেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছি।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তারা যে বিষয়গুলো তুলেছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব এবং প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।”