ববি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ভয়াবহ আবাসনসংকট চলছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন, বাকিরা বাধ্য হচ্ছেন বাইরে ভাড়া মেসে থাকতে। এতে একদিকে যেমন ব্যয় বেড়েছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে তাঁদের পড়াশোনা। বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং মানসিক চাপ এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শওকত ওসমান বলেন, ‘হলে জায়গা না থাকায় আড়াই বছর ধরে ভাড়া বাসায় থাকছি। বেশি খরচ হয়, সময়মতো ক্লাসে যেতে পারি না। পড়াশোনাও ঠিকভাবে হয় না।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এখানে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। কিন্তু চারটি হলে আসন আছে মাত্র ১ হাজার ৮৬৭টি। এর মধ্যে বিজয়-২৪ হলে ২৮৮, শেরেবাংলা হলে ৩০০, সুফিয়া কামাল হলে ৩১৪ এবং তাপসী রাবেয়া বসরী হলে ৩০০টি আসন। আসনসংকটের কারণে একটি কক্ষে সাত-আটজন করে থাকতে হয়, ফলে হলে থাকা শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে।
শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থী মো. সুজন বলেন, ‘একজনের বেডে দুজন থাকতে হয়। চারজনের কক্ষে আটজন থাকলে পড়াশোনার পরিবেশ থাকে না।’
অপরদিকে, হলে সিট না পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, সিট বরাদ্দে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তাঁদের দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা চার-পাঁচবার আবেদন করলেও সিট পান না, অথচ প্রভাবশালী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সহজেই সিট পাচ্ছেন।
হলে থাকতে না পারায় শিক্ষার্থীদের ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। হলে মাসে গড়ে ৪ হাজার টাকা খরচ হলেও মেসে থাকতে খরচ হয় অন্তত ৮ হাজার টাকা। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, ‘বাইরে থাকতে হলে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় থাকে। সন্ধ্যার মধ্যে ফিরতে হয়, পথে প্রায়ই উত্ত্যক্তের শিকার হই।’
আবাসনসংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিকুল আলম বলেন, ‘সংকট সত্য। নতুন প্রকল্পে কয়েকটি হল নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, পরিচালকও নিয়োগ পেয়েছেন। বাস্তবায়ন হলে সমস্যা অনেকটা কমবে।’
আবাসনের পাশাপাশি পরিবহনসংকটও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। ইউজিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩৫টি গাড়ি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ২৫টি। এর মধ্যে বাস ১৩টি, যার বেশির ভাগই জরাজীর্ণ। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অমিয় মণ্ডল বলেন, ‘নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পরিবহনসেবা মৌলিক অধিকার। কিন্তু সীমিত বাসে কষ্ট করতে হচ্ছে।’
এই সংকট নিরসনে সম্প্রতি ৩৭ দিনের আন্দোলন শেষে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনেও বসেন। উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেও এখনো সংকটের পূর্ণ সমাধান হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, ‘হল ও অবকাঠামোসংকট, গবেষণায় ঘাটতি, শিক্ষকসংকট—সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা বলছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার অন্যতম লক্ষ্য স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ; কিন্তু আবাসন না থাকায় সেই উদ্দেশ্যও ব্যাহত হচ্ছে।