চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ৯ অক্টোবর , ২০২৫
ক্যাম্পাসকে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও সংস্কৃতিমুখর করার অঙ্গীকার নিয়ে আলাদা ইশতেহার প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত দুটি প্যানেল।
বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের ইশতেহার ঘোষণা করে প্যানেল দুটি।
শিবিরের ৩৩ দফা ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’বেলা আড়াইটায় ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ তাদের ৩৩ দফা ইশতেহার প্রকাশ করে। নয়টি মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা ঘোষণা দেয়—আবাসন সংকট নিরসন, সবুজ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস, গবেষণা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, সেশনজট দূরীকরণ, নারীবান্ধব পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও প্রশাসনিক অটোমেশনের।
ভিপি প্রার্থী মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, “সব লক্ষ্য এক বছরে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও যতটা পারা যায়, আমরা কাজ করব।”
ইশতেহারে বলা হয়, নির্বাচিত হলে হলে অন্তত ১০ শতাংশ আসন বাড়াতে প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া হলের খাবারের মান যাচাইয়ের স্কেল, ক্যাফেটেরিয়া সংস্কার এবং বাজার তদারকির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, চাইল্ড কেয়ার কর্নার, ব্রেস্টফিডিং জোন ও নারীবান্ধব অবকাঠামো গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
বেলা সাড়ে তিনটায় একই স্থানে ইশতেহার ঘোষণা করে ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল। ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন ইশতেহার পাঠ করেন এবং এজিএস প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
তাদের আট দফা ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা–গবেষণা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে।
ছাত্রদল নির্বাচিত হলে অনলাইন স্টুডেন্ট পোর্টাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যার মাধ্যমে ক্লাস রুটিন, ফলাফল, একাডেমিক ও প্রশাসনিক তথ্য জানা যাবে।
এছাড়া কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা, প্রতিটি হলে পাঠাগার স্থাপন এবং শহরের ২ নম্বর গেটে একটি গ্রন্থাগার শাখা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সেশনজট নিরসন, ওপেন ক্রেডিট ও ক্রেডিট ট্রান্সফার পদ্ধতি প্রবর্তন, এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও তারা দিয়েছে।
দুই প্যানেলের ইশতেহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে বলেন, প্রতিশ্রুতিগুলো আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় আছে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তাওসিফ হোসেন বলেন, “দুই ইশতেহার প্রায় একই রকম। নতুন কিছু পাইনি।”
মার্কেটিং বিভাগের তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “সবাই কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলছে, কিন্তু এক বছরে কতটা সম্ভব তা নিয়েই সন্দেহ।”
নারী শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, “নারীবান্ধব প্রতিশ্রুতিগুলো যেন কাগজেই সীমাবদ্ধ না থাকে।”
৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন।
আগামী ১৫ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে। অংশ নিচ্ছেন প্রায় ৯ শতাধিক প্রার্থী, মোট ১৩টি প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবারের নির্বাচনে।