চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার , ৪ অক্টোবর , ২০২৫
দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় হলেও নানামুখী সংকটে ভুগছে এই উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বড় সমস্যা—আবাসন ও পরিবহণ স্বল্পতা।
প্রতিষ্ঠার পর বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও, সেই অনুপাতে বাড়েনি আবাসন সুবিধা। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে হলের বাইরে।
চাকসু ও হল সংসদের ভোটার তালিকা অনুযায়ী, চবিতে বর্তমানে নিয়মিত শিক্ষার্থী ২৭ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার এবং পুরুষ ভোটার প্রায় ১৬ হাজার। ছেলেদের হলে আসন ৩ হাজার ৬৮৭টি, মেয়েদের হলে ২ হাজার ৬৪১টি। ফলে মাত্র ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন আবাসন সুবিধা। অনুপযোগী রুমের কারণে এই সংখ্যা কার্যত আরও কম।
অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম শাটল ট্রেন। প্রতিদিন নয় জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও শিডিউল বিপর্যয়, নিরাপত্তাহীনতা ও বগি স্বল্পতায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর দাবি বহুদিনের হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। শহর থেকে ক্যাম্পাসে নির্দিষ্ট শিডিউলে বাস সার্ভিসও চালু হয়নি।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪ শতাংশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৫ শতাংশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে। সেখানে চবিতে এ হার মাত্র ২২ শতাংশ।
৩৫ বছর পর আয়োজিত চাকসু নির্বাচনে এবার পরিবহণ ও আবাসন সংকট বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ১৩টি প্যানেলের ইশতেহারে এ সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে শাটল ট্রেনে বগি বৃদ্ধি, নিরাপত্তা নিশ্চিত, ট্র্যাকার অ্যাপ চালু, চক্রাকার বাস সার্ভিস, নতুন হল নির্মাণ, অস্থায়ী টিনশেড হল চালু ও আবাসন ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী মো. ইসহাক ভূঞা বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে ১০টি নতুন হল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও শাটল বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেব।”
ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী সায়েম উদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রতিবছর অন্তত দুটি হল নির্মাণ ও সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করব।”
ভয়েস অব সিইউ প্যানেলের প্রার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা ও বাসা ভাড়া নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন করব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতে, চাকসু নির্বাচনের পর নতুন নেতৃত্ব এ সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধানে ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।