প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ৩১ মে , ২০২৫
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবামেক) শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অধ্যাপক না থাকায় কলেজে এমডি ও এমএস কোর্স চালু করা যাচ্ছে না।
কলেজ সূত্র জানায়, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে এমবিবিএস, বিডিএস ও পোস্টগ্র্যাজুয়েশন মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
শেবামেকে শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩৩৪টি। সেখানে আছেন ১৭১ জন, ১৬৩টি পদই শূন্য। ৫১টি অধ্যাপকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ছয়জন, যা মোট পদের মাত্র ১২ শতাংশ। সহযোগী অধ্যাপক পদ শূন্য রয়েছে ৪৯ শতাংশ এবং সহকারী অধ্যাপক পদও ৫৮ শতাংশ শূন্য।
অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, সার্জারি, মেডিসিন ও নিউরো বিভাগসহ প্রায় সব কটি বিভাগের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে অনেকটাই ‘জোড়াতালি’ দিয়ে।
কলেজ প্রশাসন সূত্র জানায়, বর্তমানে এই কলেজে ৫৬টি বিভাগের ৪৪টিতেই কোনো অধ্যাপক নেই—এর মধ্যে নিউরোসার্জারি, রক্ত সঞ্চালন, ক্যানসার, বার্ন, মেডিসিন, অর্থোপেডিক ও কার্ডিওলজি বিভাগ অন্যতম।
কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক এ কে এম আকবর কবীর বলেন, একজন অধ্যাপকের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং গবেষণালব্ধ অন্তর্দৃষ্টি ছাত্রদের শেখার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। ফলে বরিশালের শিক্ষার্থীরা এক ধরনের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য শঙ্কার বিষয়।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল বাশার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অধ্যাপক–সংকট রয়েছে, এটা সত্য। তবে অধ্যাপক না থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ নেই। তারপরও এ বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শিক্ষকদের পদোন্নতি নিশ্চিত হলে অনেক সমস্যা দূর হবে।