প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ১৫ মার্চ , ২০২৫
সরকারি তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে ঘোষণার দাবিতে ফের তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগে ১৫ ঘন্টা সময়ও দিয়েছেন তারা।
সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র যে বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে থাকতে না চাওয়ার কথা তুলে ধরে দেওয়া হয়েছে এই আল্টিমেটাম।
শনিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে কলেজের মূল ফটকের সামনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘দ্বিচারিতার’ প্রতিবাদে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটা ঘোষণা করে তিতুমীর ঐক্য।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থী বেলাল হোসেন বলেন, “গত ৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ অধিশাখার যুগ্মসচিব নুরুজ্জামানসহ সরকারের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি আমাদের মধ্যে উপস্থিত হন এবং পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবির মধ্যে ৬ দফা সাত দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য দৃশ্যমান রূপরেখা প্রণয়ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
“কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে আমরা দেখেছি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে সাত কলেজকে স্বতন্ত্র কাঠামো নামের একটি নোটিশ দেওয়া হয়, যেখানে তিতুমীর কলেজের নাম উল্লেখ ছিল। যা পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতির বিরোধী এবং দ্বিচারিতা। আমরা বলতে চাই তিতুমীরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনো এমন দ্বিচারিতা মেনে নেবে না।”
তিনি বলেন, তিতুমীর কলেজকে সঙ্গে নিয়ে কোনো সেন্ট্রাল কাঠামো শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৬ দফা আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে-
>>ছাত্র-শিক্ষক এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো গঠন
>>এই ছাত্র-শিক্ষক-মন্ত্রণালয় প্রতিনিধির মাধ্যমে ২০২৪-২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা;
>>২০২৪-২৫ সেশন থেকে আন্তর্জাতিক মানের ন্যূনতম দুটি সাবজেক্ট আইন বিভাগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগ সংযোজন
>>ন্যূনতম ১৫ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক পাঠানো;
>>১৫১ জন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার পদ সৃষ্টি করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ
>>আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এবং গবেষণাগার নির্মাণ ও শতভাগ আবাসিক সুবিধা নিশ্চিতে পার্শ্ববর্তী টিঅ্যান্ডটি এবং রাজউকের জমি হস্তান্তর করতে হবে এবং পরিবহন সংকট নিরসন করতে ন্যূনতম ২০টি দোতলা বিআরটিসি বাস বরাদ্দ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হামিদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত উনারা আমাদের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাই। কোনো ধরনের সমাধানের পদক্ষেপ নেন নাই।
“উনারা যে ছয় দফা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গেলেন, সেটি যদি উনারা না মেনে নেন, আমরা আগামী ১৫ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দিলাম। ১৫ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।"