প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ১০ অক্টোবর , ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কে শাপলা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে শাপলা প্রতীক না পেলে ইসির নিবন্ধনই নেবে না বলে জানিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এনসিপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয়।
বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৈঠকে অংশ নেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা। পরে তারা কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন, যা রাত ৮টা পর্যন্ত চলে। একই সময়ে সিইসির সঙ্গে কমিশনার তাহমিদা বেগম, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে দুই নির্বাচন কমিশনার গণমাধ্যমকে জানান, আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্তটি দলটির প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে এনসিপি নেতারা সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “ইসি শাপলা প্রতীক না দেওয়ার যে ‘না-সূচক’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অযৌক্তিক। আমরা এই প্রতীক না পেলে কোনোভাবেই নিবন্ধন নেব না।” তিনি জানান, দলটি অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, এরপরও শাপলা প্রতীক না পেলে তারা ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে’ যাবে।
তিনি আরও বলেন, “ইসি আমাদের দুই ঘণ্টা কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। শাপলা না দিলে ব্যাখ্যা দিতে হবে, কারণ এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।” তিনি দাবি করেন, কমিশন চাইলে ধানের শীষ, তারা ও সোনালী আঁশ প্রতীক বাতিল করতে পারে, তবে এনসিপিকে শাপলা দিতেই হবে।
পাটওয়ারী বলেন, “প্রতীক না পেলে নিবন্ধন হবে না। শাপলা ছাড়া এনসিপির অস্তিত্ব নেই। কেউ যদি পরিকল্পিতভাবে প্রতীক আটকে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে চায়, তবে আমরা গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।”
বৈঠক শেষে যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ রাখা হোক, যেন তরুণ ও জেন-জি প্রজন্ম ভোট দিতে পারে।”
আর জহিরুল ইসলাম মুসা অভিযোগ করেন, প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার অ্যাপ চালুতে দেরি হচ্ছে। “প্রবাসীদের ভোট থেকে বাদ দেওয়ার একটা পাঁয়তারা চলছে,” বলেন তিনি। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অক্টোবরের মধ্যেই অ্যাপটি চালু করা হবে।