প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ৩১ আগস্ট , ২০২৫
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-সহ দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারও (৩০ আগস্ট) ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বিএসসি শিক্ষার্থীদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আন্দোলনে থাকা নারী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ধর্ষণের হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।
বুয়েট ক্যাম্পাসে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিল আহমেদ বলেন, “আমরা ছয় মাস ধরে শান্তিপূর্ণভাবে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখন আমাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নারী শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল মন্তব্য করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থী বুশরা তাসনিম বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জবাই করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে মিছিল করে আমাদের উদ্দেশে এসব হুমকি দিয়েছে। ফেসবুকেও আমাদের নারী সহপাঠীদের সরাসরি ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
বুয়েট শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ অভিযোগ করেন, “আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন প্রকাশ্যে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ধর্ষণের হুমকি পাচ্ছেন।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামিউল হাসান বলেন, “ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি, জবাইয়ের হুমকি অব্যাহত আছে। বাংলাদেশের বিপ্লবী ছাত্রসমাজ ২০২৪–এর পর থেকে এ ধরনের হুমকি আর মেনে নেবে না।”
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন—‘তিন দফা মানতে হবে’, ‘ডিপ্লোমারা টেকনিশিয়ান, বিএসসি ছাড়া ইঞ্জিনিয়ার চলবে না’, ‘কোটা মানি না, মানব না’।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো বুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কার্যকর ছিল। সকালে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কোনো বিভাগে ক্লাস বা পরীক্ষা হয়নি। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল না। তবে কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অফিসে যেতে দেখা গেছে। যন্ত্রপ্রকৌশল ভবনের নিরাপত্তারক্ষী মাসুদ রানা জানান, সব পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত।
তবে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী গবেষণামূলক কাজে ক্যাম্পাসে এসেছেন। বুয়েটের উপাচার্য দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কাজ চালু রয়েছে।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ওয়ালি উল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, রোববারও সারাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসূচি আজই জানানো হবে।