প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ৭ মার্চ , ২০২৫
মাগুরায় শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (০৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্স্কয চত্বরে শুরু হওয়া মিছিল কলা ভবন প্রদক্ষিণ করে রফিক ভবনের নিচে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা, ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষণকারীর ফাঁসি চাই।।
বিচার বিচার বিচার চাই, ধর্ষণকারীর বিচার চাই।।
করতে হবে করতে হবে, ধর্ষণকরীর বিচার করতে হবে।।
ধর্ষণকারীর মৃত্যুদন্ড, প্রকাশ্যে দিতে হবে।
ধর্ষণকারীর ঠিকানা এই বাংলায় হবেনা- এসব স্লোগান দেন।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, “গত একমাসে অনেকগুলো ধর্ষণের ঘটনা দেখতে পেয়েছি। এসব ঘটনার কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিতে পারেনি। এখন মানুষ রাতে বের হতে ভয় পায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই এর প্রতিকার করতে হবে। এই সরকার ১৬ কোটি মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। আপনারা ভয়হীনভাবে কাজ করে যান। এসকল ঘটনার বিচার নিশ্চিত করেন।”
ইতিহাস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহীন মিয়া বলেন, “গতকাল মাগুরায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা এর জন্য লজ্জিত। অনেকে বলে নারী খোলামেলা পোশাক পরার কারণে ধর্ষণের শিকার হয়। তবে গতকাল যে ঘটনা ঘটলো সে জন্য মেয়েটির কি দোষ ছিল? আমরা সরকারকে বলবো এসকল ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এমন ঘটনা অনবরত ঘটতে থাকব।”
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোজিবুর রহমান বলেন, “আমরা যখন ৮ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ হওয়ার পর প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানাই, তখন কেউ কেউ বলে এতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। আমরা বলতে চাই আমরা আমেরিকার তৈরি করা মানবাধিকার মানি না। বর্তমানে যদি আমরা ধর্ষণের প্রতিরোধ করতে চাই তাহলে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। অনেকে ধর্ষণের ঘটনার আলোচনায় একজন নারীর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আমরা এ ধরনের প্রশ্ন তোলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে আট বছরের শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবার বলছে, শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে নেওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আনা হয় ঢাকায়।
মেয়েটির মা বলেন, ঘটনার সময় ওই বাড়িতে মেয়ে একাই ছিল। এ কারণে কে বা কারা তাকে ধর্ষণ করেছে, তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।
শুক্রবার রাতে আক্রান্ত শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।