প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ২৭ এপ্রিল , ২০২৫
প্রতিবছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে দ্য জনস হপকিনস সেন্টার ফর বায়োইঞ্জিনিয়ারিং ইনোভেশন অ্যান্ড ডিজাইনিং।এটি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল প্রকৌশল বিভাগের একটি প্রতিষ্ঠান। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে অংশ নেয় দুই শর বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৪০টি দল।
সুখবর হলো, প্রতিযোগিতার ‘ডিজিটাল হেলথ ট্র্যাক’ বিভাগে হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেকের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হারিয়ে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি দল। কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থীর দলটির নাম নিওস্ক্রিনিক্স।
নিওস্ক্রিনিক্সের পাঁচ সদস্য হলেন ফাহমিদা সুলতানা, এইচ এম শাদমান, সাদাতুল ইসলাম, মো. হাসনাইন আদিল ও পৃথু আনান।
পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছেন পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ছয় লাখ টাকা। নিজেদের পড়াশোনা ও গবেষণায় এই অর্থ কাজে লাগাতে চান তারা।
জানুয়ারিতে ‘ডিজিটাল হেলথ ট্র্যাক’ বিভাগে প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর ১০ মার্চ প্রতিযোগিতার ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়। এই বিভাগের ছয় ফাইনালিস্টের মধ্যে নিওস্ক্রিনিক্সের সঙ্গে বুয়েটের অন্য একটি দলও ছিল। ১২ এপ্রিল অনলাইনে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই জানানো হয় বিজয়ীদের নাম।
বিজয়ী দলের সদস্যরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে তারা স্তন ক্যানসার শনাক্ত করার এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন নারী নিজেই স্তন ক্যানসারের লক্ষণ বা সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পারবেন।
ফাহমিদা সুলতানার নিজের পরিবারেও স্তন ক্যানসারের রোগী থাকায় বছর দুয়েক আগেই তিনি এমন একটি প্রযুক্তি নিয়ে ভাবা শুরু করেন। পরে তার সঙ্গে যুক্ত হন হাসনাইন আদিল ও সাদাতুল ইসলাম।
শুরুতে হাসনাইন অ্যাপটির ইউআই (ইউজার ইন্টারফেস) বা ফ্রন্টএন্ড এবং সাদি অ্যাপটির প্রোগ্রামিং বা ব্যাকএন্ডের কাজ করেছেন। এরপর দলে যুক্ত হন এইচ এম শাদমান ও পৃথু আনান।
শাদমান এই প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করেন। পৃথু আনান সামলেছেন স্তনের স্ক্রিনিং বা ছবি তোলার যন্ত্র তৈরির দায়িত্ব। পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা দিয়ে পুরো কর্মযজ্ঞকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফাহমিদা।
পুরো কাজটি তত্ত্বাবধান করেছেন বুয়েটের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল রহমান। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম ও রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রিবাতুল ইসলাম তথ্য সংগ্রহে বিশেষ অবদান রেখেছেন।