প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ২৮ অক্টোবর , ২০২৫
তুচ্ছ একটি ঘটনা কেন্দ্র করে সাভারের আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো খাগান এলাকা। রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় সিটি ইউনিভার্সিটির ১০টি বাসসহ ১৩টি গাড়ি ও একাডেমিক ভবনের তিনতলা পর্যন্ত অংশ। সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, হামলায় তাদের ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি চার দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, “ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আমাদের অফিস, ব্যাংক বুথ, এমনকি অ্যাকাউন্ট সেকশন পর্যন্ত ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ হোস্টেলের সামনে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর মোটরসাইকেল থেকে থুথু পড়ে ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর গায়ে। এ নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিলের হোস্টেলে হামলা চালান।
এরপর ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। মধ্যরাতের পর এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পাল্টা আক্রমণে অংশ নেয়। তারা সিটি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সংঘর্ষে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হন। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রায় ৫০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা পাল্টা হিসেবে ১৭ জন ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীকে আটক করে। পরে মুচলেকা রেখে ৬ জনকে এবং বিকেলে বাকি ১১ জনকে আহত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেন। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক সুলতান মাহমুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ড্যাফোডিলের প্রক্টর শেখ মোহাম্মদ আলিয়া বলেন, “ঘটনাটি একেবারেই আকস্মিক। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্ররোচিত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।”
সাভার ও আশুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, “একটি তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে এমন বড় সংঘর্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।”
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, তবে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত।