ইবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ১৯ আগস্ট , ২০২৫
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিরোধী ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৯ শিক্ষককে শোকজ নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সোমবার (১৮ আগস্ট) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি, ভীতি প্রদর্শন, গালাগালি, উসকানিমূলক স্লোগান এবং পুলিশি গ্রেফতার ও হয়রানিমূলক কাজে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
শোকজ নোটিশে ১৯ শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—
ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিয়া মো. রাশিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. আক্তারুল ইসলাম জিল্লু, সহযোগী অধ্যাপক ড. আফরোজা বানু, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন, অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরিন, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা, আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার, অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল, অধ্যাপক ড. শাহজাহান মন্ডল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়শ্রী সেন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম এবং ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান।
তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না; এ জন্য আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও তদন্ত কমিটি আরও ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৩১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
রেজিস্ট্রার জানান, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অভ্যুত্থানকালে যারা আন্দোলনবিরোধী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাদের চিহ্নিত করতে গত ১৬ মার্চ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নির্ধারিত সময় বাড়িয়ে কমিটি গত ১৩ আগস্ট উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে মোট ৬১ জনের নাম উঠে আসে, এর মধ্যে ১৯ শিক্ষককে শোকজ করা হলো।