রাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার , ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবি ও শিক্ষকদের লাঞ্ছনার প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মঙ্গলবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত অচল ছিল।
সকাল থেকে প্রশাসন ভবনের পশ্চিম পাশে লিচুতলায় জড়ো হয়ে অবস্থান নেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগেই তাঁরা জানিয়েছিলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি সেবা—বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়া অন্য কোনো কার্যক্রম চালু থাকবে না। ফলে প্রশাসন ভবনের বিভিন্ন দপ্তর তালাবদ্ধ থাকায় পুরো ক্যাম্পাস অচল হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবহন মার্কেট এলাকার দোকানপাট ও ক্যাম্পাসের ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান অনেকাংশে বন্ধ ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভবন, শহীদুল্লাহ একাডেমিক ভবনসহ বিভিন্ন ভবনের ফটকও তালাবদ্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা।
এদিকে বিশেষ করে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা পাঠকক্ষ খোলার দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ে পাঠকক্ষ না খোলায় তাঁরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে তাঁদের দাবির মুখে সাড়ে নয়টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষ খোলা হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, আসন্ন বিশেষ বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অন্তত দুটি পাঠকক্ষ খোলা রাখা জরুরি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে দুই সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন (প্রশাসন) ও অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান (শিক্ষা) উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার জানান, বিশ্ববিদ্যালয় সচল রাখতে আন্দোলনকারীদের কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমিতিতে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলিম জানিয়েছেন, তারা কর্মসূচি থেকে সরে আসছেন না। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাতিল করা পোষ্য কোটা ১০ শর্তে পুনর্বহাল করে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। শনিবার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে। পরে সিন্ডিকেট বৈঠকে কোটা স্থগিত রাখা হয়। তবে শিক্ষকদের লাঞ্ছনার প্রতিবাদে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতির ডাক দেন।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।