কুবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার , ৩ আগস্ট , ২০২৫
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হল মাদকসেবীদের ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থলে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, মাদক সংশ্লিষ্টতায় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিয়মিত হলে অবস্থান করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
গত ২৮ জুলাই কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ থেকে গাঁজা ও ব্যবহৃত বুলেট উদ্ধার করেন হল প্রভোস্ট মো. হারুন অর রশিদ। এ ঘটনায় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল আওয়াল রবিনকে হলে অবস্থানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, রবিন এখনো হলে অবস্থান করছেন এবং সহপাঠী হোসাইন আহাম্মেদ মোশাররফের কক্ষে নিয়মিত রয়েছেন। বিষয়টি প্রভোস্টকে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
আবাসিকরা আরও জানান, এর আগেও মাদক গ্রহণের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ (আনাছ) নিয়মিত হলে অবস্থান করতেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতেও তাকে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মাঠে মাদক সেবনের সময় আটক করে প্রক্টোরিয়াল বডি। পরবর্তীতে ২৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় আনাছকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়, সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও হলে অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
তবুও তিনি হলে অবস্থান করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, আনাছ নিয়মিত আবাসিক শিক্ষার্থী ফাহিম আবরার ও রবিউল আওয়াল রবিনের কক্ষে যাতায়াত করতেন। সর্বশেষ ২৮ জুলাই আবারও মাদকসহ আটক হন বহিষ্কৃত আনাছ।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, “প্রভোস্ট মুখে পদক্ষেপের কথা বললেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। তার উদাসীনতা ও অদক্ষতায় হলটি মাদকের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।”
হল প্রভোস্ট মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “৩০৭ নম্বর রুম থেকে অভিযুক্তদের বের করে দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি তাদের আশ্রয় দেয়, সেটা অন্যায়। আশ্রয়দাতাদের সতর্ক করে শোকজ নোটিশ দেওয়া হবে।”
এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।