ইবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ১৭ মে , ২০২৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হাফিজুল ইসলামের উপস্থিতি সন্দেহে ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে তালা দিয়েছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। এসময় সিন্ডিকেট সদস্য, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও কোষাধ্যক্ষেও অবরুদ্ধ করেন তারা।
শুক্রবার (১৬ মে) বিকাল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের দুই গেট অবরোধ করে অবস্থান নেয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বিষয়টির স্থায়ী সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন স্থল ত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
সকাল ১০টায় রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গগন হরকরা মিলনায়তনে অধিকতর তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. আশরাফুর রহমান (ডিআইজি, ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ঢাকা) বিভাগের ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখানে মতবিনিময় শেষে অনুষদ ভবনে দুপুর ২টায় ডিআইজি বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক হাফিজুলের উপস্থিততে ২০ জন শিক্ষার্থীকে অভিযোগ পেশ করতে বলেন। এতে শিক্ষার্থীরা রাজিও হন। পরবর্তীতে ২ ঘন্টা বিলম্ব করে ইবনে সিনা ভবনে ডিআইজি মাত্র ২-৩ জন শিক্ষার্থী থেকে অভিযোগ নেয়ার ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীর এটি প্রত্যাখ্যান করেন।
পরে সেখানে টালবাহানা বাদ দিয়ে বিষয়টির স্থায়ী ও সুস্পষ্ট সুরাহার দাবিতে আন্দোলন করতে থাকেন। এমনকি এসময় ওই ভবনের একটি কক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফিজও অবস্থান করছেন বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে অভিযুক্ত শিক্ষক অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন দাবি শিক্ষার্থীদের। এসময় শিক্ষার্থীরা ড. আশরাফুর রহমান, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, কোষাধ্যক্ষসহ অন্যান্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের সাথে প্রশাসন একের পর এক সিদ্ধান্তের নামে টালবাহানা করতেছে। আমরা প্রশাসনের এসব টালবাহানা মানবো না। হাফিজের বিষয়ে আজকের মধ্যেই প্রশাসনকে স্পষ্ট সমাধান দিতে হবে। না হলে আমরা আন্দোলন ছেড়ে উঠব না।”
গত বছরের ৭ অক্টোবর হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের ‘নষ্টা ও বাজারের মেয়ে’সহ প্রকাশের অনুপযোগী বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ, কথা না শুনলে মার্ক কম দেওয়া, মেয়েদের পার্সোনাল নাম্বারে কল দিযে বিরক্ত করা, ফেইক আইডি দিয়ে বিভিন্ন ছাত্রীর সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ কথোপকথন ও ছাত্রদের জোরপূর্বক সমকামীতায় বাধ্য করাসহ নানা অভিযোগ ওঠে।