প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ১২ অক্টোবর , ২০২৫
গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শনিবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস-এ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এদের মধ্যে ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত ১৫ কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে রয়েছেন।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত ২৫ কর্মকর্তার মধ্যে ৯ জন অবসরে, একজন এলপিআর-এ এবং ১৫ জন কর্মরত অবস্থায় রয়েছেন। “আমরা এখনো গ্রেফতারি পরোয়ানা পাইনি। তবে সেনাবাহিনী দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই চার্জশিট দাখিলের পর ১৬ কর্মকর্তাকে সেনাসদরে সংযুক্ত করা হয় এবং ৯ অক্টোবরের মধ্যে উপস্থিত হতে বলা হয়। মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া সবাই উপস্থিত হয়েছেন,” বলেন তিনি।
কবীর আহাম্মদের বিষয়ে তিনি জানান, “তিনি ৯ অক্টোবর সকালে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। তাকে ‘ইলিগ্যাল অ্যাপসেন্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে। তার সন্ধানে ডিজিএফআই, এনএসআই, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গুম কমিশনের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনী দায়ী নয়। কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকতে পারেন, তবে তারা র্যাব বা ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন। র্যাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে, ডিজিএফআই প্রধান উপদেষ্টার অফিসের অধীনে—সেনাবাহিনীর নয়।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ আর্মি ইনসাফের পক্ষে। কোনোভাবেই ইনসাফের সঙ্গে আপস করা হবে না।”
প্রসঙ্গত, বুধবার ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তার নির্দেশে র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) গুম ও নির্যাতন চালায়। দুই মামলায় মোট ২৮ জন আসামি—এর মধ্যে শেখ হাসিনা, তার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পাঁচ সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক এবং র্যাব-পুলিশের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান জানান, ২২ অক্টোবর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। “আমরা ৫৪ বছরে এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যেও আইন ও ন্যায়বিচারের পথে থেকেছি,” বলেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে। মোতায়েন তিন-চারগুণ বাড়বে। ট্রেনিং ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সে অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।”