নোবিপ্রবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ২০ মার্চ , ২০২৫
ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শিশির পন্ডিতকে হলের রুমে থাকা নিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের প্রভোস্ট বরাবর এক অভিযোগপত্রে এই হয়রানির কথা জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযোগে জানা যায়, ভুক্তভোগীর হলে থাকার বৈধ সিট থাকলেও জাহিদ হাসান নামে ঐ ছাত্রদল নেতা নিজেকে ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নিজের পছন্দের লোক উঠানোর চেষ্টা করেন। এই বিষয়ে অন্য ছাত্রদল নেতা কর্মীদের দিয়ে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে জেরা করারও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয় নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য হল প্রশাসন বরাবর অনুরোধ করেছেন ওই শিক্ষার্থী।
ছাত্রদল নেতা জাহিদ বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার কাছে তথ্য এসেছে যে শিশির পন্ডিত এবং তার বন্ধু চাকুরীজীবী হয়ে তারা হলে সিট নিয়েছে এবং সিটে উঠে নাই। হল প্রশাসন একটা নোটিশ দিয়েছে যারা নির্দিষ্ট সময়ে হলে উঠবে না তাদের সিট বাতিল গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে প্রভোস্ট মহোদয়ের মৌখিক অনুমতি নিয়ে দুইটা ছেলে ঐ রুমে থাকে। শিশির পন্ডিতের পরিচয় দিয়ে তার জুনিয়র সেখানে থাকতে আসে৷ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমি শিশির পন্ডিতকে কল দিয়ে হল প্রভোস্টের সাথে কথা বলতে বলেছি৷
ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয়ের বিষয়ে জাহিদ হাসান বলেন, আমি এমন কোনো পরিচয় দি নাই৷ আমি শুধু বলেছি আমি নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা জাহিদ হাসান।
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক নূর হোসেন বাবু বলেন, জাহিদ হাসান নামে আমাদের কমিটিতে কোনো নেতা নেই। কেউ যদি ছাত্রদল সভাপতি পরিচয় দিয়ে কোনো অন্যায় কাজ করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি হল প্রশাসনকে এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
নোবিপ্রবি ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের প্রভোস্ট বডি অভিযোগ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী প্রভোস্ট বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয়ে শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা হল প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।