রাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার , ১৯ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটার প্রায় ২৯ হাজার। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই অনাবাসিক শিক্ষার্থী। ফলে তাদের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন হল সংসদের প্রার্থীরা। দলীয় প্রার্থীরা সংগঠনের কাঠামো ব্যবহার করে কিছুটা সুবিধা পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হল সংসদের প্রার্থীরা জানান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। দলীয় প্রার্থীদের প্রতিটি বিভাগে নেতাকর্মী থাকায় তারা সহজেই ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রথমে ভোটারের বিভাগ শনাক্ত করে পরে পরিচিতদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। এতে প্রচারণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রার্থী বলছেন, এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান একমাত্র শতভাগ আবাসিকতা।
১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। তবে ১৭টি হল ও একটি আন্তর্জাতিক ডরমিটরিতে আবাসন সুবিধা আছে মাত্র ৯ হাজার ৬৭৩ জনের জন্য, যা মোট শিক্ষার্থীর ৩২ শতাংশ। বাকিরা মেসে বা ভাড়া বাসায় থাকেন। ফলে ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আবাসিক সুবিধার আওতায় আছেন।
নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস প্রার্থী নুরুল ইসলাম শহীদ বলেন, “অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে কষ্ট হচ্ছে। বিভাগভিত্তিক পরিচিতদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হচ্ছে।” শহীদ শামসুজ্জোহা হল সংসদের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী শিখর রায় বলেন, “আমার হলে ১৩০০ ভোটারের দুই-তৃতীয়াংশ অনাবাসিক। তাদের রিচ করা খুবই কঠিন। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শতভাগ আবাসিকতা জরুরি।”
শাহ মখদুম হল সংসদের প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম স্বাধীন জানান, “দলীয় প্রার্থীদের প্রতিটি বিভাগে নেটওয়ার্ক আছে। আমাদের ক্ষেত্রে একজনের মাধ্যমে অন্যদের কাছে পৌঁছাতে হচ্ছে।”
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, দুটি নতুন হল নির্মাণাধীন আছে—কামারুজ্জামান হলে ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীরা উঠতে পারবেন, আর শেখ হাসিনা হলের কাজ শেষ হবে আগামী জুনে। এছাড়া পাঁচটি নতুন হল নির্মাণ ও একটি পুরোনো হল ভেঙে ১০ তলা ভবন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে আবাসিক সংকট অনেকটাই কাটবে।