প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ১১ এপ্রিল , ২০২৫
বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম আয়োজন ‘মঙ্গল শোভযাত্রার’ নামে বদল এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার আয়োজন নতুন নামে হবে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবার শোভাযাত্রা হবে ‘অনেক অন্তর্ভুক্তিমূলক’। দেশে বসবাসরত ২৮টি জনগোষ্ঠীর লোকজন শোভাযাত্রায় অংশ নেবে। রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা দেবে এবারের শোভাযাত্রা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ওই সংবাদ সম্মেলনে চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম ঘোষণা করেন শোভাযাত্রার নতুন নাম হল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। তবে এটাকে নাম বদল না বলে ‘পুনরুদ্ধার’ হিসাবে বর্ণনা করছেন আয়োজকরা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আজহারুল বলেন, “আগেও পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রাটি হত, তার নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। সেটি পরে মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হয়েছিল। আমরা আবার ‘আনন্দ শোভাযাত্রায়’ ফিরে গেলাম। এটাকে পুনরুদ্ধার বলা যেতে পারে।”
গত শতকের আশির দশকে সামরিক শাসনের অর্গল ভাঙার আহ্বানে পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল; সেটিই পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এ কর্মসূচি।
পহেলা বৈশাখের সকালে বরাবরই রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। নববর্ষ উদযাপনে তার আগে থেকেই শাহবাগ এলাকা রূপ নেয় জনারণ্যে।
চারুকলার ডিন বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাপক এই আয়োজনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রার নামকরণ করা হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’, যার ছায়াতলে দেশের সকল বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে। প্রতিফলিত হবে বর্তমানের সব শ্রেণির মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা এবং ফুটে উঠবে শোভাযাত্রার প্রকৃত আনন্দ।”
আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজনে থাকবে বড়, মাঝারি ও ছোট মোটিফ। এর মধ্যে বড় মোটিফ থাকবে ৬টি। সবার সামনে থাকবে ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদলে এক নারীর দাঁতাল মুখাবয়বে মাথায় রয়েছে খাড়া দুটো শিং।
এই মোটিফটির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “ফ্যাসিস্টের প্রতিকৃতি দেখে কেউ যদি কারো সঙ্গে মিল খুঁজে পান, তা প্রত্যাকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমরা সামগ্রিকভাবে ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে আমাদের অবস্থান তুলে ধরছি।”
শোভাযাত্রায় বড় মোটিফের মধ্যে থাকবে কাঠের বাঘ, ইলিশ মাছ, ৩৬ জুলাই (টাইপোগ্রাফি), শান্তির পায়রা, পালকি, জুলাই আন্দোলনে নিহত মুগ্ধের পানির বোতল।
এছাড়া অন্যান্য মোটিফের মধ্যে থাকবে ১০টি সুলতানি ও মুঘল আমলের মুখোশ, ৮০টি ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি, ২০টি রঙিন চরকি, ২০০টি বাঘের মাথা, ৮টি তালপাতার সেপাই, পলো ১০টি, ৫টি তুহিন পাখি, ৬টি মাছের চাই, ৪টি পাখা, ২০টি মাথাল, ২০টি ঘোড়া, ৫টি লাঙল, ৫টি মাছের ডোলা এবং ১০০ ফুট লোকজ চিত্রাবলীর ক্যানভাস ১০০ ফুট থাকবে।
চারুকলার সম্মুখভাগের দেয়ালে আঁকা হচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী শখের হাঁড়ির মোটিফ। জয়নুল শিশু নিকেতন দেয়ালে আঁকা হচ্ছে সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী মাটির দেয়াল অমনরীতি অবলম্বনে চিত্র।
এবারের শোভাযাত্রায় অন্যান্য মোটিফের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মুসলমানদের লড়াই ও সংসামের সাথে সংহতি জানিয়ে তাদের প্রতীক হিসেবে তরমুজের মোটিফ থাকবে।
চৈত্র সংক্রান্তিতে চারুকলায় আয়োজিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে।