প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ২১ জুন , ২০২৫
‘অবৈধ বহিষ্কারাদেশ’ প্রত্যাহার, ‘দমনমূলক’ সিন্ডিকেটের জবাবদিহি এবং শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশের নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর নতুন বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা ‘নতুনবাজার ব্লকেড’ নামে কর্মসূচি শুরু করে।এতে নতুনবাজার-গুলশান-বনশ্রী সংযোগ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করেও শিক্ষার্থীদের সরাতে পারেনি।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘হয় বহিষ্কার বাদ যাবে, না হয় আমার লাশ যাবে’; ‘প্রত্যাহার বহিষ্কার, তারপর হবে সংস্কার’; ‘অথরিটি স্বৈরাচার, এবার তোরা গদি ছাড়’, ‘প্রাইভেট খাতে শিক্ষাকর, করতে হবে প্রত্যাহার’; ‘প্রাইভেট সব মাঠে থাক, সিন্ডিকেট নিপাত যাক’সহ নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বহিষ্কারের সঙ্গে জড়িত সকল ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
এছাড়াও, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি সংস্কার কমিশন গঠন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাতিলের দাবিও জানান তারা।
ভাটারা থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, “শিক্ষার্থীরা সড়কের একপাশে অবস্থান নিয়েছেন, এর ফলে কুড়িল থেকে বাড্ডাগামী সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
“শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আমরা চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এসেছেন, তারা কথা বলছেন।”
প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইউআইইউ সূত্র ও শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের জেরে উপাচার্যসহ ১১ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। এরপর ২৮ এপ্রিল ইউআইইউ কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য সব শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। যদিও ২০ মে থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তা প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসে সরাসরি ক্লাস ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি করে আসছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের যৌক্তিক ১৩ দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করে আসছে। উলটো আন্দোলন দমন করতে বহিষ্কার করা হচ্ছে। গত ২ জুন ৪১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে স্থায়ী ও ১৬ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বাকি একজনকে সতর্কবার্তা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।