ইবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার , ৬ আগস্ট , ২০২৫
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) তিনি বলেন, “বিপদের সময় প্রশিক্ষিত তরুণরাই দেশের রক্ষাকবচ। নির্বাচিত সরকার যেন তরুণদের সামরিকভাবে প্রস্তুত করার দায়িত্ব নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন, মৌলিক পরিবর্তনের সময় তাদের হাতে নেই। তাই ভবিষ্যতের সরকারকে পরামর্শ থাকবে—জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তরুণদের সামরিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে।” ভারত ও মায়ানমারকে সম্ভাব্য বহিঃশত্রু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে সতর্ক না থাকলে ফের উপনিবেশে পরিণত হতে পারি।”
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লব কেবল শাসক নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে হয়েছিল। বিপ্লব এখনো চলমান, কারণ কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্পূর্ণ হয়নি।” তিনি অভ্যন্তরীণ হুমকি হিসেবে ‘ভারতপন্থী দালাল’ ও ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ প্রসঙ্গও তোলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
র্যালি ও আলোচনা সভায় অংশ নেন উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড ওবায়দুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, জিয়া পরিষদ সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান, ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হক, গ্রিন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. শহিদ মোহাম্মদ রেজোয়ান, ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক আ.ব.ম সিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি, শাখা বৈছাআ'র সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট, শাখা শিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান, ছাত্রদল আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি নুর আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।
আলোচনার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জুলাই উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য দেন।
সভায় উপাচার্য আশ্বাস দেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর দেওয়া দাবির বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।