প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ২ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
সুচিকিৎসা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের দাবিতে রাজধানীর শ্যামলীতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর বা পঙ্গু হাসপাতাল) সামনের সড়ক অবরোধ করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতরা।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সামনের রাস্তায় নেমে আসেন। মধ্যরাতেও সড়কের দুই লেনে অবস্থান নিয়ে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে আহতরা বিক্ষোভ করছেন। এতে আগারগাঁও থেকে শিশু মেলা লিংক রোড হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কেবল অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত স্বাভাবিক থাকে।
এ আন্দোলনে অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।
আহতদের মধ্যে কেউ কেউ এসেছেন লাঠি ভর করে। তাদের কারও চোখ নেই, হাত নেই, পা নেই কিংবা কারও কারও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গহানি হয়েছেন। দাবি আদায়ে তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। অনেকে রাস্তায় শুয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দেলনে গুলিবিদ্ধ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ পর্যন্ত আমার চোখে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। বাম চোখে এখনো আমি ঝাপসা দেখি। ধীরে ধীরে ডান চোখেও কম দেখছি। আমাদের উন্নত চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। এখন আমার দৃষ্টি কমে আসছে, অথচ সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না।” এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে সনদ দেওয়ার দাবি জানান।
৪ আগস্ট পুলিশের গুলিতে ডান পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়া তাঁত শ্রমিক মো. ইমরান বনলন, “আমি কবে সুস্থ হতে পারবো সেটা অনিশ্চিত। আমার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করতাম, সেই টাকায় পরিবার চলতো। এখন আমার সঙ্গে পরিবারও ভুগছে।”
পুলিশের গুলিতে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়া উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী হেলাল হাসান বলেন, “উন্নত চিকিৎসা আমার অধিকার, এটা চাইতে হবে কেন?।”
শের-ই-বাংলানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম আজম বলেন, প্রায় অর্ধশতাধিক আহত ও তাদের স্বজনরা সড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে।