চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার , ৫ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি ক্যাম্পাস। হামলাকারীদের গ্রেফতার ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন মিয়ার মাথার খুলি অস্ত্রোপচারের পর ফ্রিজে সংরক্ষণ করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার মাথার ব্যান্ডেজে লেখা রয়েছে— ‘হাড় নেই, চাপ দিবেন না।’ মামুন বর্তমানে কেবিনে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথার ১৩ টুকরো হাড় অপসারণ করা হয়েছে। সুস্থ হলে প্রায় দুই মাস পর খুলি পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হবে।
পার্কভিউ হাসপাতালে চার দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর আইসিইউ হয়ে বর্তমানে কেবিনে রাখা হয়েছে মামুনকে। পরিবারের সদস্যরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন নিয়েই পড়াশোনা করছিলেন তিনি।
বড় ভাই মাসুদ রানা বলেন, “যে আশা নিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালাম, সেটা এখন ভেঙে যাচ্ছে।”
অপর আহত শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েমের জ্ঞান ফেরেনি পাঁচ দিনেও। তবে আরেক শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম রাফির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
এদিকে, হামলার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
তাদের স্লোগান ছিল— “১, ২, ৩, ৪, প্রক্টর তুই গদি ছাড়”, “যে প্রক্টর আমাদের না, সে প্রক্টর মানি না” এবং “আমার ভাই আইসিইউতে, প্রশাসন নিয়োগ বোর্ডে।”
সংঘর্ষে থমকে যাওয়া ক্যাম্পাসে ধীরে ধীরে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।
অন্যদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার আটজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রামবাসীদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অনেকে ভয়ে নিজ গ্রামে ফিরতে পারছেন না; কেউ কেউ এক কাপড়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।