কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক সমিতির (কুবিসাস) ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও কার্যনির্বাহী পরিষদ-২০২৪ এর দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী পরিষদ-২০২৪ এর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ হাসানের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি জুবায়ের রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কুবিসাস'র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো: হায়দার আলী।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাসুদা কামাল ও কোষধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলাইমান।
প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন নেত্র নিউজের এডিটর ইন চিফ তাসনিম খলিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কুবিসাসের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো: হায়দার আলী বলেন, লেজুড়বৃত্তিক সাংবাদিকতা থেকে বের হয়ে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো অন্যায়ের পাশাপাশি ভুলভ্রান্তিও তুলে ধরতে হবে। এমন কি আমার ভুলগুলোও তুলে ধরবেন। আপনাদেরকে এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, সাংবাদিকরা আমাদের সমাজের দর্পন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অথিরিটি ও রেসপনসেবলিটি নিশ্চিত হয় জবাবদিহিতার মাধ্যমে এবং সাংবাদিকেরা এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন। আমি আপনাদের নৈতিকতা ঠিক রেখে নিউজ করতে বলবো। মেধা ও মননের সমন্বয়ে কাজ করতে বলবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস) নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলেও তারা জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে কুবিসাস।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ও জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছে। এই আন্দোলনে সবার অংশগ্রহণ আছে। একজন মানবাধিকার কর্মী বলেছে ঢাকার বাইরে কিসের আন্দোলন হয়েছে? এই ডকুমেন্টারিগুলো তার প্রমাণ। আমি দেখেছি আন্দোলনে অনেক মেয়েরা অংশগ্রহণ করেছে, সামনে আসছে। কী অভূতপূর্ব আন্দোলন। সেই অনুযায়ী যদি নব্বইয়ের আন্দোলন দেখেন আপনি খুব কম মেয়ে পাবেন। বাংলাদেশের এই আন্দোলন নিয়ে ইন্ডিয়ার মিডিয়া অনেক আজেবাজে কথা লেখে। আমার মনে হয় এই ডকুমেন্টারিগুলো ইন্ডিয়ার মিডিয়ার জন্য চপেটাঘাত।”
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমরা এখনো বুঝতে পারি নাই। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মূল জায়গা স্টোরি টেলিং শেখা। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা এই সুযোগটা তরুণ সাংবাদিকদের দেয়।
“ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা মানেই শোষণের শিকার। আগের সরকার সকল সিকিউরিটি ফোর্স দিয়ে আমাদের অধিকার হরণ করেছে। ভিসি এটা বলেছে, প্রো-ভিসি ওটা বলেছে, হলে খাবার সংকট এসবে পড়ে থাকলে চলবে না। নিজেকে ব্যপ্ত করেন। স্টোরি টেলিংয়ের মাধ্যমে নিজেকে খুঁজে পাবেন,” কুবি প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন প্রেস সচিব।
সাংবাদিক তাসনিম খলিল বলেন, “আজকে দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে আগের নেতৃত্ব সরে যাবেন নতুনরা আসবেন। আপনারা খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতৃত্ব নিচ্ছেন। এক যুগ বাংলাদেশে কোনো স্বাধীন সাংবাদিকতা ছিলো না। আপনারাই প্রথম নেতৃত্ব যারা নতুন করে স্বাধীন বাংলাদেশে, স্বাধীন গণমাধ্যম সৃষ্টির সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার উর্বর ক্ষেত্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।”
ইউরোপে অবস্থান করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষে অনুসন্ধানি সাংবাদিকতা করে পরিচিতি পাওয়া এই সম্পাদক বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন জাতি যেমন যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের হাত পাকায় ইউনিভার্সিটি পত্রিকায় কাজ করে। বাংলাদেশে এরকম গণমাধ্যম দেখা যায় না। এখানে একটা বড় গ্যাপ আছে আপনারা নতুন যারা আসছেন এরকম কিছু করা যায় কিনা দেখবেন।”
কুবিসাসের সাবেক সভাপতি মো.শফিউল্লাহ বলেন, সাংবাদিক সমিতির যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। শিক্ষার্থী আর সাংবাদিক এক নয়। সাংবাদিকদের কাজ নিউজ প্রচার করা।
সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা হল সাহসী সাংবাদিকতার আঁতুড় ঘর। বাংলাদেশে এখনো ক্যাম্পাস সাংবাদিককতা অবহেলিত হয়ে আছে।