প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: সোমবার , ১৪ এপ্রিল , ২০২৫
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সোমবার দিনভর চলা এ গুজবের মধ্যে সন্ধ্যায় তার ব্যক্তিগত সহকারী হাসনাইন জানিয়েছেন, বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সুস্থ আছেন।
হাসনাইন সাংবাদিকদের বলেছেন, “স্যার সুস্থ আছেন। মৃত্যুর খবরটি গুজব। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাচ্ছেন তিনি।
৮১ বছর বয়সি তোফায়েল আহমেদ ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। সবশেষ ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য এক সময় বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের নেতা তোফায়েল আহমেদ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হয়েছিলেন তখনকার এই তরুণ নেতা।
সর্বশেষ তিনি সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনেও, গত অগাস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পলায়নের পর যে সংসদ ভেঙ্গে দেন রাষ্ট্রপতি।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তোফায়ের আহমেদ। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এক-এগারো সরকারের সময় ‘সংস্কারপন্থী’ তকমা পাওয়ায় ২০০৯ সালে গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় তাকে স্থান দেননি শেখ হাসিনা। তবে, একতরফা ভোটে ২০১৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রবীণ এই নেতাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন তিনি।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে দৈনিক মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে তোফায়েল আহমেদের শারীরিক অবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়, “ভয়াবহ স্ট্রোকের কারণে শরীরের একাংশ প্যারালাইজড হয়ে গেছে। এর ফলে স্মৃতিভ্রষ্টতা তাকে আড়ষ্ট করে ফেলায় তিনি চেনাজানা জগতের কিছুই ঠাওর করতে পারছেন না। বর্তমানে তার বাঁ হাত ও পা একেবারেই অবশ। চলাফেরায় অক্ষম।”
মাঝে-মধ্যে নিকটজনেরা বনানীর বাড়ির চৌহদ্দীতে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঘুরিয়ে আনলেও ‘সতেজ বাতাসের সঙ্গে মেলবন্ধন’ অনুভব করতে পারেন না তিনি।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ কথাও বলতে পারেন না। কমে গেছে খাওয়া-দাওয়াও। যার প্রভাব পড়েছে শরীরে। অনেকটাই শুকিয়ে গেছেন। অধিকাংশ সময় বিছানায় শুয়ে থাকতে হচ্ছে।
“২৪ ঘণ্টার দিন-রাতের দুই- তৃতীয়াংশ সময়ই ঘুমিয়ে থাকেন। হাঁটতে পারেন না। শারীরিক জটিলতার কারণে প্রায়ই তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, চাইলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”
এর মধ্যে সোমবার তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিরোধীদের অনেকেও সেই গুঞ্জন ছড়াতে ভূমিকা রাখেন। যেটাকে গুজব হওয়ার কথা বলেছেন তোফায়ের আহমেদের ব্যক্তিগত সহকারী।