প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ২১ নভেম্বর , ২০২৫
গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্পে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার খুব কাছেই—নরসিংদীর মাধবদীতে। প্রায় ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ৬ শিক্ষার্থীসহ ৪১ জনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ঢাবির দুই শিক্ষার্থীসহ ছয়জন ভর্তি আছেন। পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে আরও ১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঢাবির হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের কয়েক শিক্ষার্থী আতঙ্কে ভবন থেকে লাফ দিয়ে আহত হন। সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা ভেঙে আহত হন ছাত্রদলের নেতা তানভীর বারী হামিমসহ আরও অনেকে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঢাকার আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকায় আটতলা ভবনের পাশের দেয়ালের অংশ খসে পড়ে নিচে থাকা দোকান ও পথচারীদের ওপর। এতে ঘটনাস্থলের লোকজন আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন—রাফি উল ইসলাম (২২), হাজী আবদুর রহিম (৪৭) এবং তার ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন (১২)।
ঢাকার বাইরে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভবনের দেয়াল ধসে ১০ মাস বয়সী শিশু ফাতেমার মৃত্যু, আহত তার মা-সহ আরও দুজন।
নরসিংদীর পলাশে মাটির ঘর ধসে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত। নরসিংদী সদরের গাবতলীতে সানশেড ভেঙে পড়ে মারাত্মক আহত ওমরের (১০) মৃত্যু হয় ঢামেকে। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫–২০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ভবনে ফাটল, পলেস্তরা খসে পড়া এবং কিছু ভবন হেলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উত্তর বাড্ডা, নিউ মার্কেট এলাকা, টঙ্গী স্টেশন রোড, কলাবাগান, মিরপুর, গুলশানসহ অনেক স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হল ও ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ে। গাজীপুরের একটি ছয়তলা ভবন হেলে পড়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সরবরাহব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পিডিবি জানিয়েছে, দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে কাজ চলছে। কিছু সময় মোবাইল নেটওয়ার্কও বিঘ্নিত ছিল।
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তার বার্তায় বলা হয়েছে—“জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত সাড়া দিচ্ছে। গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকুন।”
সরকার জানিয়েছে, মাঠপর্যায় থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে।