প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: সোমবার , ৪ আগস্ট , ২০২৫
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে নিজেদের পক্ষে ভোট চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি বলেন, “তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক।”
রোববার (৩ আগস্ট) বিকালে ঢাকার শাহবাগ মোড়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত এক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তারেক রহমান। জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, “দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী হতাহত হয়েছেন। এই সময় দেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি তরুণ নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন, কিন্তু তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন সময় এসেছে হারানো ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যেন উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান বা পুনর্বাসন না ঘটে, সেজন্য শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে। বিভেদ আর প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, জনগণ চায় গুণগত রাজনীতি। বিএনপি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারুণ্য ও নারীর শক্তিকে কাজে লাগাবে।”
শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ই-কমার্স, আইসিটি, কারিগরি শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে হলে সাহস ও সততার সঙ্গে ছাত্র সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।”
সমাবেশে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ‘২৪-এর ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে ৯ দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন।
দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. গেস্টরুম-গণরুম নির্যাতন বন্ধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবিরোধী পরিবেশ গড়ে তোলা।
২. আবাসন, খাদ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৩. ধর্ম-বর্ণ-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে কাজ করা।
৪. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষা ও চিন্তা নিয়ে সর্বজনীন শিক্ষানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।
৫. কর্মমুখী শিক্ষা, প্রশ্নফাঁস রোধ ও দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা।
৬. মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।
৭. ঐতিহাসিক আন্দোলনের চেতনায় সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা।
৮. ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
৯. ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে যাওয়া।
ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বাংলাদেশে বিভক্তির নানা প্রচেষ্টা চলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আর কখনো রাজনীতি করতে দেওয়া যাবে না—এই শপথ নিতে হবে।”
ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিজেদের আত্মনির্ভর করে তুলতে হবে। কারও কাছে মাথা নত নয়। এ দেশ আমরা নিজেরাই গড়ব।”
বক্তব্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “জুলাই আন্দোলন শিখিয়েছে, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের স্থান নেই। হেলমেট বাহিনী ছাত্রলীগেরও কোনো জায়গা নেই।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল বলেন, “ছাত্রদলকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। যারা দেশ অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলতে ছাত্রদল সক্ষম।”
সভাপতিত্ব করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া, যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল মালুম প্রমুখ।