প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ২২ মার্চ , ২০২৫
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক পুনর্বাসনে সেনানিবাস থেকে চাপ পাওয়ার যে দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ করেছেন, তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সেনাবাহিনী সদর দপ্তর।
শনিবার নেত্র নিউজকে এক বিবৃতিতে সেনাসদর বলেছে, সেনানিবাসে খোদ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গেই ১১ মার্চ বৈঠকটি হয়েছিল। তবে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ‘ডেকে নিয়ে যাওয়া এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে তাদেরকে প্রস্তাব বা চাপ প্রয়োগে’র অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
বরং হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তার দলের আরেক মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের আগ্রহেই ওই বৈঠকটি হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে নতুন রূপে পুনর্বাসনের বিষয়ে সেনানিবাসের কাছ থেকে চাপ পাওয়ার অভিযোগ করে শুক্রবার হাসনাত আব্দুল্লাহ একটি ফেসবুক পোস্ট দেন।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও এক ভিডিও ‘সাক্ষাৎকারে’ সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তোলেন। তাদের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন পরিকল্পনায় ‘সেনাবাহিনী’: হাসনাত
বুকে পাথর চাপা দিয়ে ইউনূসকে মেনে নেন সেনাপ্রধান: আসিফ মাহমুদ
আ. লীগ পুনর্বাসনেও তারা আপোষ করবে না: হাসনাত
এরই প্রেক্ষিতে নেত্র নিউজ যোগাযোগ করলে একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে বক্তব্য দেয় সেনা সদর। হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্টকে ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বৈ অন্য কিছু নয়’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে সেনা সদরের বিবৃতিতে।
এছাড়া ২৭ বছর বয়সী এই ছাত্রনেতার বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ক গল্পের সম্ভার’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে সেনাবাহিনী।
বিবৃতিতে বলা হয়, “হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সারজিস আলম দীর্ঘদিন যাবৎ সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। পরবর্তীতে সারজিস আলম ১১ই মার্চ ২০২৫ তারিখে সেনাপ্রধানের মিলিটারি এডভাইজারকে ফোন দিয়ে সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাতের জন্য সময় চান। এর প্রেক্ষিতে মিলিটারি এডভাইজার তাদেরকে সেনাসদরে আসার জন্য বলেন।”
“অতঃপর ১১ই মার্চ দুপুরে সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ সেনাসদরে না এসে সরাসরি সেনাভবনে সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান অফিস কার্যক্রম শেষ করে সেনা ভবনে এসে তাদের সঙ্গে দেখা করেন।”