প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ২২ মার্চ , ২০২৫
সেনানিবাস থেকে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন পরিকল্পনার অভিযোগ করা জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরাও সেক্ষেত্রে আপোষ করবে না।
শনিবার গভীর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছেন, “দেশপ্রেমিক অফিসাররা রাজি হয় নি ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালাতে। আমরা দেশপ্রেমিক সেনাদের ভালোবাসি।
“যে অফিসাররা হাসিনার আদেশ মানে নি, তারা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে কখনোই আপোষ করবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।
নিজের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের সঙ্গে ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার পালানোর পর গণভবনের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত।
ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ছাত্র-জনতার গণভবন দখলের ওই সময়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার ছবি নামিয়ে ফেলছেন।
সেনানিবাস থেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে’ পুনর্বাসনের পরিকল্পনা আগানোর বিষয়ে নিজের আগের বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে এমন পোস্ট দিলেন হাসনাত।
অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হাসনাত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে এক ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, ১১ মার্চ দুপুর আড়াইটায় তিনিসহ তিনজনের কাছে সেনানিবাস থেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে’ রাজনীতিতে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ওই বৈঠকে ‘৪০ বছরের বেশি সময়’ সেনাবাহিনীতে কর্মরত একজন কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের মতবিরোধ ও বচসা হওয়ার কথা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এক পর্যায়ে বৈঠক শেষ না করেই তাদের চলে আসতে হয়েছে।
হাসনাত তার পোস্টে লিখেছেন, “আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদেরকে বলা হয়–ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে–তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।
“একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা না-কি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।”
তার ওই বক্তব্য নিয়ে উত্তাপের মধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বিরুদ্ধে পরদিন শুক্রবার আরেকটি বোমা ফাটান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এই নেতা বলেন, গত অগাস্টে সরকার পতনের পর নোবেলবিজয়ী ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার করার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে চাননি জেনারেল ওয়াকার। ওই সিদ্ধান্ত হওয়ার তিনি বলেছিলেন, ‘বুকের পাথর চাপা দিয়ে এ সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি’।
সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন কড়া বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।
অভ্যুত্থানের নেতাদের উদ্যোগে গঠিত এনসিপির বাইরে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলী অবস্থান নিয়ে বলছে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি-না, তা ঠিক করবে জনগণ।
একইসঙ্গে জুলাই-অগাস্টে ‘গণহত্যার’ জন্য শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানাচ্ছে প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দল।