প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনসহ কয়েকটি দাবিতে আরও তিনটি দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে মোট সাতটি রাজনৈতিক দল অভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায়, শুক্রবার বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করবে দলগুলো।
১৬ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পৃথক সংবাদ সম্মেলনে নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর আগে সোমবার জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস এবং রোববার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একই কর্মসূচি দেয়।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা চলমান থাকলেও সাত দলের এমন অভিন্ন কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপির ভেতরে এ নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিকে চাপের মধ্যে রাখাই এসব কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো কৌশল জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।
অন্যদিকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি মনে করেন, আলোচনার মাঝেই মাঠের কর্মসূচি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও একই মত দেন। তার মতে, আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়নি, তাই শান্তি নষ্টকারী কর্মসূচি কাম্য নয়।
দলগুলোর মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ, বিগত সরকারের জুলুম-গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞের বিচারের দাবিও যুক্ত করা হয়।
এছাড়া প্রতিটি দল কিছু বাড়তি দাবি জানায়। নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত আন্দোলন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি তোলে। অন্যদিকে জাগপা শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানায়।